খুলনায় নকল এনার্জি
ড্রিংকস কারখানা
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৩
খুলনায় নকল এনার্জি ড্রিংকস (কোমল পানীয়) কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। নগরীর দৌলতপুর এলাকার এই ভুয়া কারখানায় আট ধরনের নকল এনার্জি ড্রিংকস তৈরি করা হতো। এখান থেকে ৩ হাজার বোতল নকল এনার্জি ড্রিংকস ও পাঁচ হাজার খালি বোতলসহ ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার দুই মালিক ও পাঁচ কর্মচারিকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার দুই মালিককে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে ১ বছর তিন মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়। তবে আটককৃত ৫ কর্মচারি দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল ভোরে দৌলতপুরের দেয়ানা মধ্যপাড়ায় হাসপাতাল মোড় এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় কারখানা থেকে হর্স পাওয়ার, জিনিস পাওয়ার, এ্যারাবিয়ান হর্স পাওয়ার, ডাবল হর্স পাওয়ার, জিনিস সিরাপ ও জিনি জিনসেন সিরাপসহ মোট আট প্রকারের ৩ হাজার বোতল নকল ড্রিংকস উদ্ধার করা হয়। যা প্রস্তুত সম্পন্ন হয়ে গতকাল মঙ্গলবারই বাজারজাতের অপেক্ষায় ছিল। এছাড়া ৪ হাজার লিটার লিকুইড ড্রিংকস, ৫ হাজার খালি বোতল, বিভিন্ন নামের ৩/৪ হাজার লেবেল, জেলি, সাবুদানা, চিনি ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কেমিক্যালসহ ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
পরে নকল পানীয় তৈরির অভিযোগে কারখানার মালিক মুরাদ মল্লিক (২৮) ও মো. জিলান হোসেন (২৫), কর্মচারি সিরাজুল ইসলাম (১৮), রিজন শেখ (১৭), আমিরুল ইসলাম (২২), শেখ হেদাউজ্জামান (২০) ও মো. জুয়েল শেখকে (১৮) আটক করা হয়। সকাল ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানা দুই মালিককে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে ১ বছর তিন মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মুরাদ দেয়ানা বাউন্ডারী রোডস্থ দফাদারপাড়ার আকবর মল্লিকের ছেলে এবং জিলান নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার বা ঐ সেনা গ্রামের মৃত ওলিউর রহমানের ছেলে।
ডিবি’র পরিদর্শক শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান, মুরাদ ও জিলান দীর্ঘ দিন ধরে ওই ভাড়া বাসায় এনার্জি ড্রিংকসের নামে নকল পানীয় তৈরি করছিলেন। এসব পানীয় তারা খুলনা, যশোর, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। অথচ তাদের কোন ধরনেরই অনুমোদন নেই। এসব নকল পণ্যের ব্যাপারে গোয়েন্দা তত্পরতা অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।