গানের পপি

নিজেকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করে তবেই কাজ করতে পছন্দ করেন পপি। তাই তো সংগীতে শুদ্ধ তালিম নিয়ে গান করা শুরু করেছেন। তিনি গান করেন মাত্র চার বছর বয়স থেকে। তখন শুধু নিজে নিজে যেমন খুশি তেমন করে গান গেয়ে যাওয়া। যেমন খুশি তেমন করে গাওয়াটাই যেন পপির বাবা-মায়ের ভালো লেগে যায়। ছোট্ট পপিরও ইচ্ছে তখন বড় হয়ে গায়িকা হবেন। একটু একটু করে যখন পপি বড় হতে শুরু করলেন সেই ইচ্ছে যেন আরও প্রবল হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র সাত বছর যখন তার বয়স সেই সময় পপি গানে তালিম নেওয়া শুরুর করেন প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেনের কাছে। আর এরপর তিনি তালিম নেন ওস্তাদ জাকির হোসেনের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতে। বিগত বেশ কয়েকটি বছর যাবত তিনি তালিম নিচ্ছেন ওস্তাদ সঞ্জীব দের কাছে। একের পর এক বিভিন্ন সংগীতজ্ঞদের কাছে তালিম নিয়ে পপি যেন সংগীতের নানা দিক সম্পর্কেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গানের দিকে পপির ভালোবাসা প্রবল হলেও মাঝে ২০০২ সালে হঠাত্ করেই অনেকটা অগোছালোভাবেই যেন ‘ড্যান্ডি বিনোদন ফটোলুক প্রতিযোগিতা’য় হয়ে গেলেন রানার আপ। তার এই সাফল্যে তিনি সে সময় বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করলেও নিজেই একসময় সিদ্ধান্ত নেন মডেলিং করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। তাই ২০০৩ সালে স্বেছায় সেখান থেকে সরে দাঁড়ালেন। তখন থেকে এখন পর্যন্ত পপি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন গানের ভুবনেই। খুব ছোট্টবেলা থেকে গানের সাথে পপি জড়িত থাকলেও অনেক সময় পরে এসে ২০০৯ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সত্যি’ বাজারে আসে সংগীতার ব্যানারে। এই অ্যালবামের ‘তুমি আছো বলে’ গানটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। অনেকটা সময় নিয়ে ২০০৯ সালে এসে প্রথম একক অ্যালবাম করা প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘আমাদের গানের জগতে অনেক শিল্পীই সংগীতের অনেক বিষয় না জেনেই গান করছেন। যা একজন শিল্পীর প্রতিভা বিকাশে অনেক বড় অন্তরায়। যদি কেউ সত্যিই মন থেকে শিল্পী হতে চান তাহলে আমি মনে করি তার গুরুমুখী বিদ্যা থাকা জরুরি। তবে যদি কেউ মনে করেন যে আমি শখের বশেই গান গাইতে এসেছি তবে তার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু তবুও গান গাইতে এসে এটাকে নিয়ে যা খুশি করা ঠিক নয়। আমি নিজেকে বিগত বছরগুলোতে তৈরি করেছি। আমার নিজের গাওয়া গানকে আমি নিজে আগে উপলদ্ধি করার চেষ্টা করেছি। যখন বুঝতে পারলাম এখন আমি অ্যালবামে গান গাইতে পারি তখনই ‘সত্যি’ অ্যালবামটি বাজারে এনেছি। এবং আমি সফল হয়েছি।’ ২০০৯ সালের পর আবার দুই বছর বিরতি দিয়ে বাজারের আসে পপির দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ইচ্ছে করে’। এই অ্যালবামটি বাজারে আনে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লেজার ভিশন। মাত্র কয়েকদিনেই অ্যালবামটি প্রথমটার চেয়ে অধিক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এ প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘নিজের কাজের প্রতি আমার শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাস ছিল। আমার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ইচ্ছে করে’ বাজারে আসার আগে থেকেই আমার মনে হচ্ছিল যে, এই অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতাদের ভালো লাগবে। কারণ সত্যিই আমি একেবারেই ভিন্নধরনের কিছু গীতিকবিতা নিয়ে ভিন্ন সংগীতায়োজনের মধ্যদিয়ে গানগুলোকে শ্রোতাদের উপযোগী করে তুলেছি।’ পপির এমন আত্মবিশ্বাসের কারণ তিনি গানে নিজেকে উপস্থাপন করছেন সুর, লয়, তাল ও ছন্দের সবদিক জেনে বুঝে। যা অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম দেখা যায়। বর্তমানে পপি তৃতীয় অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নাম ঠিক না হওয়া এই অ্যালবামে থাকবে আটটি গান। দেওয়ান আকরাম মাহমুদের সুর ও সংগীতায়োজনে এ অ্যালবামের গানগুলো হলো—‘ঘুম ঘুম চোখে’, ‘এক পা দু’পা’, ‘সুখ পাখি’, ‘বৃষ্টিভেজা’ প্রভৃতি। এতে চারটি ডুয়েটসহ সলো গান থাকবে। সেইসাথে আসছে ভালোবাসা দিবসে ‘তুমি নদী আমি নৌকা’ শিরোনামে পপির গাওয়া একটি ভিডিওগান বাজারে আসার কথা রয়েছে। অ্যালবামের কাজ ছাড়াও পপি স্টেজ পারফর্ম করছেন সমানতালে। পপির বাবা-মা আর ছোটবোন প্রিয়াংকার সহযোগিতা ছাড়া গানের ভুবনে এমন অবাধ প্রবেশ কখনোই সম্ভব হতো না। তাই পরিবারের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা সব সময়ই। পপি ভবিষ্যতে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।