আনুশকা এখন

বলিউডের একজন উল্লেখযোগ্য চিত্রনির্মাতা হিসেবে বিশাল ভারদ্ধাজের নামটি বেশ আলোচিত বলা যায়। এ পর্যন্ত ‘মাকড়ে’, ‘মকবুল’, ‘দ্য ব্লু আমব্রেলা’, ‘ওমকারা’, ‘কামিনে’, ‘সাত খুন মাফ’-এর মতো ছবিগুলো পরিচালনা করে বিশেষ খ্যাতি ও প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার পরিচালিত সপ্তম ছবি ‘মাতরু কি বিজলী কা মানডোলা’ মুক্তি পাচ্ছে এ সপ্তাহে। নাম শুনেই ধারণা করা যায়, রোমান্টিক-কমেডি ধাঁচের ছবি হবে তা। বিশাল ভারদ্ধাজের ছবিতে নানা ধরনের চমক থাকে। ছবির কাস্টিং থেকে শুরু করে গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ, গান, নাচ, অভিনয় সব কিছুতেই বৈচিত্র্য আর চমকের প্রকাশ থাকে। তার আগের সব ছবিতেই দর্শক এসব বিষয় বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করেছেন। বিশালের নতুন ছবি ‘মাতরু কি বিজলী কা মানডোলা’য় যখন প্রধান নায়িকা চরিত্রে আনুশকা শর্মাকে কাস্ট করা হয় তখন বলিউডজুড়ে আলাদা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ বলিউডের বিখ্যাত ব্যানার ইয়াশরাজ ফিল্মসের আবিষ্কার তন্বী অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে এই ব্যানারের বাইরের কোনো ছবিতে খুব একটা দেখা যায়নি গত কয়েক বছরে। ইয়াশরাজ ফিল্মসের বাইরে অন্য ব্যানারের একটি মাত্র ছবি ‘পাতিয়ালা হাউস’-এ নায়িকা হয়েছিলেন আনুশকা অক্ষয় কুমারের বিপরীতে। ছবিটি তেমন ভালো সাড়া জাগাতে পারেনি। এর ফলে আনুশকাকে নিয়ে বলিউডে এক ধরনের সংশয় দানা বেঁধে উঠছিল। সেই সংশয়টি হলো, কেবলমাত্র ইয়াশরাজ ফিল্মসের বলয়ে বন্দী হয়ে থাকবেন তিনি, অন্য ব্যানারের ছবিতে নিজেকে তেমনভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন না তিনি। আনুশকা শর্মা বলিউডের নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল তারকাদের একজন—এটা তিনি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। ২০০৮-এ ‘রাব নে বানাদি জোড়ি’ ছবিতে প্রথম অভিনেত্রীরূপে আত্মপ্রকাশ করেই দর্শকদের চমকিত করেছিলেন আনুশকা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই শাহরুখ খানের মতো বলিউডের সেরা জনপ্রিয় অভিনেতার বিপরীতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা তাকে দর্শকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল। এরপর ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’, ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বাহল’ এবং সর্বশেষ ‘জাব তাক হ্যায় জান’-এর মতো বক্স অফিসে সাফল্যের ঝড় তোলা ছবিগুলোতে দর্শক আনুশকাকে ক্রমেই আরও পরিণত, আরও উজ্জ্বল এবং আরও প্রত্যয়ী হয়ে উঠতে দেখেছেন। মাত্র দু’মাস আগে মুক্তি পেয়েছে প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপড়া পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘জাব তাক হ্যায় জান’। এ ছবিতে আকিরা রাই চরিত্রে আনুশকার অভিনয় সবার উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা অর্জন করেছে। ক্যাটরিনা কাইফ থাকলেও দর্শকদের মনোযোগ ও সহানুভূতি আকিরা চরিত্রের দিকে নিয়ে যেতে পেরেছেন এ ছবির দ্বিতীয় নায়িকা আনুশকা। এটা আনুশকার বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন দর্শক-সমালোচক সবাই। ২০১২-এর বিভিন্ন চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘জাব তাক হ্যায় জান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য বেশ কিছু পুরস্কার পেয়ে যেতে পারেন তিনি—তেমন সম্ভাবনার কথা এখন খুব আলোচিত হচ্ছে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বলিউডের প্রতিষ্ঠিত নামিদামি তারকাদের সঙ্গে একই ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন আনুশকা। শাহরুখ খান থেকে শুরু করে শহিদ কাপুর, অক্ষয় কুমার, রণবীর সিংয়ের বিপরীতে এত দিন প্রথমবারের মতো তরুণ প্রজন্মের আরেক আলোচিত জনপ্রিয় নায়ক ইমরান খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। আগামীতে অনুরাগ কাশ্যপের ‘বোম্বে ভেলভেট’ ছবিতে রণবীর কাপুর, রাজকুমার হিরানির ‘পিকে’ ছবিতে আমির খানের বিপরীতে আনুশকাকে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে তার প্রতি নির্মাতাদের আস্থা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মেলে। এখন আর তাকে ইয়াশ রাজ ফিল্মসের নায়িকা হিসেবে সীমাবদ্ধ বলয়ে ভাবা হচ্ছে না। হালের ‘মাতরু কি বিজলী কা মানডোলা’ ছবিতে বিজলী চরিত্রে আনুশকা নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইমেজে উপস্থাপন করেছেন। এ ছবির প্রমো এবং বিভিন্ন নাচগানের দৃশ্যে তার সাহসী ভাব দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে আনুশকা বলেন, ‘বিজলী মেয়েটি একটু অন্যরকম, তার মেজাজ-মর্জি ঠিক থাকে না, কখন যে কী করে বসে সে নিজেই আগে থেকে ধারণা করতে পারে না, এ রকম মেয়ে বাস্তবে আমি দেখিনি। তেমনি একটি চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা, দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাটা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার চেষ্টার কমতি ছিল না। পরিচালক বিশাল ভারদ্ধাজ আমার উপর ভরসা করেছেন। আমি তার চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলাম বিজলী হওয়ার জন্য। দর্শক এ ছবিতে আমার লুক, আমার পারফর্মেন্স, নাচ, গান ইত্যাদি দেখে মজা পাবেন বেশ।’ এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে আনুশকা আরও বলেন, ‘এবারই প্রথম আমি এমন একটি চরিত্র রূপায়ণ করলাম যার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারিনি, আমি নিজেকে অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে বিজলীরূপে ক্যামেরার সামনে বিশ্বাসযোগ্য করেছি।’ একজন আর্মি অফিসারের মেয়ে হিসেবে ছোটবেলা থেকে পারিবারিক কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন আনুশকা। ফিল্মে ক্যারিয়ার গড়ার আগে কিছুটা কেয়ারলেস টাইপের ছিলেন আনুশকা। নিজে একাকী অনেক কিছুই করতে পারতেন না। কিন্তু গত চার বছরে বলিউডে বিচরণের পর অনেকটা বদলে গেছেন তিনি ভেতরে ভেতরে। ‘এখানে অনেক পরিশ্রম করতে হয় টিকে থাকার জন্য, নানাভাবে প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়, অনেক সময় মিথ্যা অপবাদের শিকার হতে হয়, যা আমি এর মধ্যেই উপলব্ধি করেছি। আমি এখন নিজেকে অনেকটা পরিণত মনে করি। সহজে ভেঙে পড়া কিংবা গলে যাওয়ার মতো মেয়ে নই আমি এখন। জীবন সম্পর্কে আমার উপলব্ধি ক্যারিয়ারের প্রভাবিত করছে। এটা আমার জন্য অনেক সুফল বয়ে আনছে। এখন আমি নিজেকে যে অবস্থানে ভাবতে পারছি চার বছর আগে তেমনভাবে ভাবতে পারিনি, নিজের উত্তরণটা আমি টের পাচ্ছি ভালোভাবেই। আমার প্রতি অন্যদের মনোভাবেও অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। এভাবেই নিজের উপর আমার আস্থা বাড়ছে দিনে দিনে,’ নিজের সম্পর্কে বলেন আনুশকা সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে। ‘মাতরু কি বিজলী কা মানডোলা’ ছবিতে আনুশকা শর্মা দর্শকদের নতুনভাবে আবিষ্ট এবং আলোড়িত করবেন—তেমন প্রত্যাশা সবার। এ ছবিটি তার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মোড় সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।