দোষ স্বীকার করতে যাচ্ছেন আর্মস্ট্রং!
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
বিশ্বের তাবত্ ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম ল্যান্স আর্মস্ট্রং। বিশেষ করে নতুন করে কোনো ক্রীড়াবিদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেই তার কাছে পৌঁছে যেত এই কিংবদন্তী সাইক্লিস্টের বার্তা, ‘আমি যখন পেরেছি, তুমিও পারবে।’ হ্যা, আর্মস্ট্রংই পেরেছিলেন। ক্যান্সারকে জয় করে ফিরে সাত-সাতবার ট্যুর ডি ফ্রান্স জয়ের অনন্য এক রেকর্ড গড়ে ক্রীড়াবিশ্বের এক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর প্রেরণার নামে পরিণত হতে পেরেছিলেন। সেই স্বর্গ থেকে পতন হয়েছে আর্মস্ট্রংয়ের। অনেক আগে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-বিরোধী সংস্থা (ইউএসএডিএ) কেড়ে নিয়েছে তার সব পদক। বলা হয়েছে, আর্মস্ট্রংয়ের সব অর্জনই আসলে নিষিদ্ধ মাদকের ফল। ইউএসএডিএ যাই বলুক, এ কথা আর্মস্ট্রংও যেমন মানছিলেন না, তেমনই বিশ্বও বিশ্বাস করছিল না। তাহলে সত্যিটা কী?
সত্যি জানতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী ১৭ জানুয়ারি ভুবনবিখ্যাত অপরাহ উইনফ্রে শো’তে হাজির হচ্ছেন ল্যান্স আর্মস্ট্রং। আর এই সরাসরি অনুষ্ঠানে ৯০ মিনিটে ধরে ‘আনকাট’ অবস্থায় আর্মস্ট্রং কথা বলবেন সেলিব্রিটি উপস্থাপক অপরাহর সঙ্গে। এখানে জীবনের সব ‘সিক্রেট’ বলে দেবেন আর্মস্ট্রং। আর্মস্ট্রংয়ের বিপক্ষে প্রথম অভিযোগ উঠেছিল তার প্রথম ট্যুর ডি ফ্রান্স জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মটরোলা টিমের সঙ্গে ট্রায়াথলন ক্যারিয়ার শুরু করেন আর্মস্ট্রং। এরপর ১৯৯৫ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়সহ নানা ধরনের অর্জন জমা হয় তার ঝুলিতে। কিন্তু উঠতি এই তারকার ক্যারিয়ার-জীবন সবকিছুতেই অন্ধকার নেমে আসে ১৯৯৬ সালে। এ বছর ধরা পড়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন আর্মস্ট্রং। সে ক্যান্সার মস্তিষ্ক ও ফুসফুস হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আর্মস্ট্রংয়ের জীবনের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়েই ১৯৯৭ সালে আবার খেলাধুলায় ফেরেন এই মার্কিন অ্যাথলেট। সেবার সাইক্লিং শুরু করেন। এরপর শুরু হয় ইতিহাস। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত অপরাজেয় হয়ে ওঠেন আর্মস্ট্রং। এই সময়ে তিনি রেকর্ড ৭টি ট্যুর ডি ফ্রান্স ও একটি অলিম্পিক পদক জেতেন। ফলে বিশ্বের সব ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন বেঁচে ফেরার এক প্রতীকে। এই সেদিনও যুবরাজ সিং ক্যান্সার আক্রান্ত হলে এই আর্মস্ট্রংয়ের প্রেরণাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন।
আর্মস্ট্রংয়ের এই ‘দেবতা’ ইমেজে ১৯৯৯ সাল থেকেই কালির ছিটে একটু ছিল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবসময়ই অভিযোগ করেছেন, তিনি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণ করেন। এ অভিযোগে কয়েকশ’বার মাদক পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কখনোই দোষী প্রমাণিত হননি। অবশেষে গতবছর ইউএসএডিএ বলে, তাদের কাছে আর্মস্ট্রংয়ের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আছে। তারা দাবি করে- ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফলভাবে, স্পর্শকাতর কৌশলে এবং সবচেয়ে গোপনীয়তার সঙ্গে নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণকারী’ ছিলেন আর্মস্ট্রং। সে প্রমাণের ভিত্তিতে গঠিত অভিযোগের শুনানিতে অবশ্য হাজির হননি আর্মস্ট্রং। তিনি বলেছিলেন, তিনি ক্লান্ত। আর এসব ঝামেলায় যেতে চান না। ফলে একতরফা শুনানিতে আর্মস্ট্রংয়ের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে দেয়া হয়। কেড়ে নেয়া হয় তার সব পদক। এ নিয়ে পরেও আর্মস্ট্রং কোনো আফসোস না করলেও গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, আর্মস্ট্রং দোষ স্বীকার করতে পারেন। কারণ, দোষ স্বীকার করলে তিনি ক্ষমা পাওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। যদিও তার আইনজীবী বলেছেন, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে জানানো হল, আগামী ১৭ জানুয়ারি লাইভ শোতে তাদের অতিথি হচ্ছেন আর্মস্ট্রং। ফলে চারিদিকে অনুমান শুরু হয়ে গেছে এই শোতেই সব দোষ কবুল করে নেবেন কিংবদন্তী এই সাইক্লিস্ট।
অবশ্য এখনও পর্যন্ত অপরাহ বা আর্মস্ট্রং কারো পক্ষ থেকেই এই শো সম্পর্কে কোনো ধারণা দেয়া হয়নি। ফলে আসলে কী হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।