বিশ্বকাপে চোখ লিওনেল মেসির

টানা চারবার বর্ষসেরার পুরস্কার জিতে ইতিমধ্যেই মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তবে সর্বকালের বিশ্বসেরা এই তারকার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত শুধু একটা অপ্রাপ্তি; একবারও বিশ্বকাপ জয় করতে না পারা। আর মেসি নিজেও ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার জয় কিংবা ক্লাব ফুটবল থেকে উপরে স্থান দিচ্ছেন তার জাতীয় দলকে। জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয় করার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। ২০১২ সালটা সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ কেটেছে মেসির। গোল করেছেন মোট ৯১টি। জাতীয় দলের হয়েও দেখিয়েছেন নিজের কৃতিত্ব। আর ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ দল বার্সেলোনার হয়ে তার পারফরমেন্সে বরাবরই ভালো। এবার নিজের পারফরমেন্স দিয়ে বিশ্বকাপ জয় করতে চান মেসি। তার দৃষ্টি এখন ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের দিকে। দ্য সানকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে মেসি বলেন, ‘এতো প্রাপ্তির মধ্যে অপ্রাপ্তি শুধু একটা বিশ্বকাপ। সত্যি কথা বলতে, যদি ব্যালন ডি’অরের সাথে বিশ্বকাপ ট্রফি অদল বদলের কোন সুযোগ থাকতো তাহলে আমি অবশ্যই বিশ্বকাপকে বেছে নিতাম। সবসময় আমি এভাবেই ভাবি। কোনকিছুর সাথেই বিশ্বকাপ জয়ের তুলনা হয় না। আমি সবসময় বলে আসছি আমি বার্সেলোনা ও জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে আরো সাফল্য চাই। আর এটাই আমার সব সময়কার স্বপ্ন।’ আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রসঙ্গ আসলে বার বারই সামনে চলে আসে কিংবদন্তী ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাথে মেসির তুলনা। আর ম্যারাডোনার সাথে এই বিশ্বকাপ দিয়েই পিছিয়ে আছেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনাই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসান। কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার আর্জেন্টিনা দল সামনের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকায় এখন পর্যন্ত সবার উপরে অবস্থান করছে। লিওনেল মেসি বলেন, ‘এটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার যে, গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই আমার ব্যাপারে কথা বলছেন। আর তারা যা বলছেন সেটা অবশ্যই ভালো। প্রতিবছর আমি নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যেতে চাই। নিজের পারফরমেন্সে আরো উন্নতি আনতে চাই। আমার লক্ষ্য নিজের অবস্থান ধরে রাখা নয়, নিজের অবস্থান আরো ভালো করা।’ ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার জয়ের পর মেসি নিজের এমন কৃতিত্বের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর পুরস্কার জিতে দেশে ফেরার পর সমর্থকরা আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছিল তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আশাকরি এবারও এমনটাই ঘটবে। জাতীয় দলের প্রতিও মানুষের সমান আবেগ। তাই জাতীয় দলের হয়ে আরো ভালো খেলার ব্যাপারে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। মাঝে বেশ অনেকদিন আমাদের দলের রসায়নটা কাজ করছিল না। তবে এখন দল যেভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারছে তাতে আমি খুশি।’ সমর্থকদের প্রতি মেসি আরো বলেন, ‘আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজেদের সেরাটা দেয়ার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। আমার আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য আরো আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে চাই। এখন দল আগের থেকে অনেক ঐক্যবদ্ধ। আর এই একতাই সামনে আমাদের আরো শক্তিশালী দলে পরিণত করবে। আমরা চাই সবাই জাতীয় দলের ভালো খেলায় প্রশংসা করুক, খারাপ খেললে তার গঠনমূলক সমালোচনা করুক।’ বিশ্বজুড়ে মেসি বন্দনা! তাকে নিয়ে মাতামাতি আগেও ছিল; আর টানা চতুর্থবারের মতো বর্ষসেরার পুরস্কার জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের পরিমাণটা এখন আকাশচুম্বি। সমর্থক, ফুটবলবোদ্ধা থেকে শুরু করে বিশ্বের তামাম গণমাধ্যমগুলো মেতে উঠেছে মেসি বন্দনায়। ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত ব্যালন ডি’অরে মেসি পেয়েছেন শতকরা ৪১.৬ ভাগ ভোট। মেসিকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণার সাথে সাথেই গণমাধ্যমগুলোয় ব্যস্ত হয়ে যায় মেসিকে নিয়ে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা একবাক্যে মেসিকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। তারা বলে, ‘লিও মেসি গত (সোমবার) সর্বকালের সেরা মুকুট জয় করলেন।’ বার্সেলোনা ভিত্তিক দৈনিক মান্ডো ডেপোর্টিভোর হেডলাইন ছিল ‘গোল্ডেন মেসি’। তারাও একবাক্যে মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছে। ফুটবল ভিত্তিক ওয়েবসাইট বলেছে, ‘অভিনন্দন মেসি’। বার্সেলোনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের হোমপেজে তারা বড় করে জানিয়েছে মেসির প্রতি শুভেচ্ছা। অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক সিডনি হেরাল্ড মর্নিং তাদের হেডলাইনেই ব্যাখ্যা করে বলে দিয়েছে কেন মেসি অন্য সবার থেকে আলাদা। তাদের ভাষা ছিল অনেকটা এরকম, ‘হতে পারে রোনালদো ও ইনিয়েস্তা গ্রেট ফুটবলার, তবে নিজের ফুটবল দক্ষতা দিয়েই সবাই ছাপিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি।’ ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মেসিকে অপ্রতিরোধ্য বলে মন্তব্য করেছে। এখানেই শেষ নয়। মেসি শুভেচ্ছা পাচ্ছেন তামাম ফুটবল বিশ্বের। নিজের ক্লাব বার্সেলোনা ফুটবল দলের সভাপতি স্যান্দ্রো রসেল এক টুইটারে বলেন, ‘নিজেদের খেলোয়াড় বিশেষ করে মেসিকে নিয়ে আমি এই মুহূর্তে আমি উচ্ছ্বসিত।’ টুইটারে মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ভিসেন্তে দেল বক্স। ফুটবলের বাইরের দুনিয়া থেকেও মেসির জন্য শুভকামনা আসছে। স্পেনের টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল টুইটারে মেসি ও ভিসেন্তে দেল বক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিছুদিন আগে ডাচ ফুটবল কিংবদন্তী ইয়োহান ক্রইফ বলেছিলেন, ‘মেসির যে ফর্ম তাতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের আগেই পাঁচ থেকে ছয়টা ব্যালন ডি’অর নিজের নামে করে নেবে।’ সেই পথেই আছেন মেসি। তাহলে কি অমরত্বের পথেই হাঁটছেন মেসি?