নারী নির্যাতন রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ার আহবান

সমপ্রতি দেশব্যাপী নারী-শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলছে। এ ধরনের বর্বরোচিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করে এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সোচ্চার হওয়ার ও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তারা এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন। গতকাল বুধবার ৮০টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্লাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ আহ্বান জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন ড. হামিদা হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, ব্র্যাকের প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন সরকার, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, নারী প্রগতি সংঘের প্রতিনিধি রওশন আরা বেগম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি রওশন জাহান পারভীন, নারী শ্রমিক জোটের উম্মে হাসনাত, বাউসির মাহবুবা বেগম এবং পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের সৈয়দা লতিফা বানু। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী কোনো ভোগ্যবস্তু নয়, নারী মানুষ। নারীর বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ, ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, রাজনৈতিকভাবে এসব ঘটনার মোকাবেলা করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন আমাদের দেশে প্রগতির চাকাকে থামিয়ে দিবে। এজন্য সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিকার করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না, যদি না নারীরা নিরাপদে কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারে। ঘরে, রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। নারী যখন ধর্ষণের শিকার হয় তখন বাংলাদেশের কোনো নারী সম্মানজনক অবস্থানে থাকতে পারেন না। কিন্তু নারীর সম্মান টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব অথবা নারী নির্যাতনের শিকার হলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করার দায়িত্ব কেবল নারী আন্দোলনের নয়, এই দায়িত্ব নিতে হবে সরকার এবং রাজনৈতিক দলকে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে অবিলম্বে দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। বক্তারা বলেন, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সকল নাগরিক, এদেশের আপামর তরুণ ও পুরুষ সমাজকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের বিবেককে জাগ্রত করাতে হবে।