৪৫বার বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিলেন নরসিংদীর মাহফুজুর রহমান

বিশ্ব ইজতেমায় নরসিংদী জেলার মাহফুজুর রহমান শরিক হয়েছেন ৪৫ বার। ইত্তেফাক-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার প্রতিটি পর্বে অংশগ্রহণ করে থাকি। এর মধ্যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় ও পারিবারিক সমস্যায় দুই বার উপস্থিত থাকতে পারিনি। বাকি ৪৫ বছরই উপস্থিত থেকে ইজতেমার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেছি।’ তিনি জানান, ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় নামক স্থানে কয়েক হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা শুরু হয়। ১৯৬৭ সালে বর্তমান স্থান টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হয় দ্বিতীয় ইজতেমা। সে বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটলে ইজতেমা থেকে বিশ্ব ইজতেমার নামকরণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটলেও দীর্ঘ ৪৮ বছরে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশ্ব ইজতেমা শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ বার বৃষ্টি ও ২ বার টর্নেডো ঝড় ছাড়া বড় কোন অঘটন ঘটেনি এবং ইজতেমায় আগত সকল মুসল্লিদের নিয়ম শৃঙ্খলা নিজেরাই মেনে চলেন। এতে কোন প্রশাসনের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও যত বছর বেচে থাকবো এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরই অপেক্ষা করি ইজতেমায় যোগ দেওয়ার জন্য। দৈনন্দিন সব কাজ শেষ করার মতো ইজতেমাও আমার কাজের অংশ।’ সত্যিকার অর্থে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় এই বৃহত্তম জমায়েতে অংশগ্রহণ করাটাই অনেকের কাছে বড় প্রাপ্তির বিষয়। সেই হিসেবে নরসিংদীর মাহফুজুর রহমান নিজেকে এক অনন্য দৃষ্টান্তে প্রতিস্থাপন করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন ফরজ পালনের পাশাপাশি দ্বীন দুনিয়ার দাওয়াত পৌঁছে দিতে আয়োজিত এই আয়োজনে শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতের আয়োজনগুলোতে তার অংশগ্রহণ যেন নির্বিঘ্ন হয় তেমনটি প্রত্যাশাই রইলো।