সাহিত্যে ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আবির্ভূত হন কবি শহীদুর

কবি শহীদুর রহমানকে স্মরণ করলো লেখক, সাহিত্যিক ও ভক্ত-সুহূদবৃন্দ। বাংলা সাহিত্যে এক ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা ও দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আবির্ভূত হন এই লেখক। মানুষের অন্তর্নিহিত ভাবনা তার লেখায় এক বিস্ময়কর রূপ নিয়ে হাজির হয় পাঠকের সামনে। তবে কবিতাই ছিল তার প্রথম প্রেম। তুখোড় গল্পকার হলেও কবিতা ছিল তার প্রকৃত ক্ষেত্র এবং কবিই তার মুখ্য পরিচয়। শহীদুর রহমানের সম্ভাবনা ও শক্তি তার কাব্যগ্রন্থের পাঠক উপলব্ধি করবেন। প্রয়াত এই লেখক স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ষাট দশকের শক্তিশালী লেখক, সাংবাদিক-অধ্যাপক ও কবি শহীদুর রহমানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। শহীদুর রহমানের ছেলে অভীক রহমানের কলাবাগানের বাসায় অনুষ্ঠিত হয় এ স্মরণসভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন কথাশিল্পী রায়হানা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর, আবুল কাশেম ফজলুল হক, বাংলা একাডেমীর প্রাক্তন মহাপরিচালক মনসুর মুসা, সাংবাদিক সৈয়দ কামালউদ্দিন প্রমুখ। ১৯৯২ সালের ৪ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন শক্তিমান এই লেখক। সভার শুরুতেই শহীদুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। পরে তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের সুধীজন তার লেখা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় তার বিখ্যাত গল্প ‘বিড়াল’ পাঠ করা হয়। ষাটের দশকে সমকালে প্রকাশিত ‘বিড়াল’ গল্পটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক ভাঙ্গনের মুখে যন্ত্রণাকাতর ক্ষত-বিক্ষত এক তরুণের প্রতিচ্ছবি বিড়াল। শহীদুর রহমান লেখক-গোত্রে বিড়াল নামেই পরিচিতি লাভ করেন। শহীদুর রহমানের ‘বিড়াল’ নামে পরে গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হয়। বক্তারা বলেন, ‘বিড়াল’ এর গল্পগুলো সমাজের বহির্বাস্তব ও অন্তর্বাস্তবতা তুলে ধরেছে। তারা বলেন, বিপুল প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর বহন করে তার অধিকাংশ গল্প। শহীদুর রহমানের কাব্যগ্রন্থের নাম ‘শিল্পের ফলকে যন্ত্রণা’।