ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে শেয়ার বাজারে আনুন

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) শেয়ার বাজারের অন্তর্ভুক্ত করতে একটি নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এজন্য সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠনটি মনে করে। এমসিসিআই মনে করে এটা সম্ভব হলে দেশের অর্থনীতিতে আরো গতিসঞ্চার হবে। এমসিসিআই-এর নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা গতকাল শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, এমসিসিআই নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া এ রহমান, সহ-সভাপতি কামরান টি রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একেএম রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ ফারুক মোহাম্মদ আলী, মহাসচিব ফারুক আহমেদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদ শিল্পায়নের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এজন্য শিল্পায়নের স্বার্থে শিল্পঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট নির্ধারণ করা উচিত। ব্যাংকারদের অতি উত্সাহী মনোভাবের কারণে এটা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক বলেন, আমানতে সুদের হার কমে গেলে জনগণ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিদেশে পাঠিয়ে দেবে। এতে দেশের ক্ষতি হবে। আর আমানতে বেশি সুদ দেয়ার কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকেও বেশি সুদ নিচ্ছে ব্যাংক। তবে তারপরও শিল্পঋণে সুদ কম হলে ভাল হয় বলে মনে করেন তিনি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম এখনো কম। দাম বাড়ানোর পরও অনেক টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে এ খাতে। তবে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারের প্রাপ্য ট্যাক্স পেলে ভর্তুকি দেয়া সহজ হতো। আর এ ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য অনেক বেশি প্রচারণা চালানো দরকার। বৈঠকে এমসিসিআই নেতারা ভারতসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাড়াতে বিএসটিআই’র আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা এ সময় ভারতের ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিএসটিআই’র অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া এসএমই খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং অগ্রাধিকার শিল্পখাতের তালিকা সংকুচিত করে চিহ্নিত শিল্পখাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধির কথা বলেন। চাহিদামাফিক গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ নিশ্চিত করার গেলে শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেন।