সন্দেহের তীর শ্বশুর বাড়ির দিকে
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০০
ঢাকা সিটি ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদার অপহরণ ও হত্যা ঘটনায় ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বুধবার বিকাল পর্যন্তও ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় মামলা হয়নি। অন্যদিকে, এ হত্যার ঘটনার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহের তীর রফিকের শ্বশুরবাড়ির দিকে। এ হত্যার পেছনে রফিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ঝরা’র বড় বোন স্নিগ্ধা ও শাশুড়ি লিপি বেগম এবং তাদের পরিবারের সদস্য একজন পুলিশ কনস্টেবলের হাত থাকতে পারে বলে এখন পর্যন্ত তদন্তে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ থেকে আমাদের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, শৈলকুপা থানার ওসি আব্দুল বারি জানান, মামলা দায়েরের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত রফিকুলের পরিবারের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা ঢাকা থেকে এসে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। নিহত রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, রফিকুলের মামা ও বঙ্গবাজার মহানগর কমপ্লেক্স মার্কেটের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ-আলোচনার পর শৈলকুপায় গিয়ে মামলা করা হবে। তিনি সন্দেহ করছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তার সন্দেহের তীর আনন্দনগর গ্রামের দুই নিকটজনের দিকে। তাদের একজন শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার শ্বশুরবাড়িতে রফিকুলের সাথে গল্প করছিলেন। র্যাব পরিচয়ে বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি সরে যান। তিনি আরো বলেন, ঢাকাতে ষড়যন্ত্র হলেও স্থানীয় কারো সহযোগিতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। রফিক শনিবার ঢাকায় ফিরবেন বলে মোবাইল ফোনে তার সাথে আলাপে জানিয়েছিলেন। কেন তিনি না ফিরে রাতে আনন্দনগর থেকে গেলেন-এর পিছনে কোন রহস্য থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
র্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রফিক ঝিনাইদহের আনন্দনগরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগে ঝরা’র পরিবারের পক্ষ থেকে ঐ এলাকার সাবেক এক চেয়ারম্যানের কাছে জানানো হয় যে, এলাকায় র্যাব অভিযান চালাতে পারে। র্যাবের এই অভিযান চালানোর বিষয়টি ঝরা’র পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই কেন প্রচার করা হয় তা র্যাব তদন্ত করছে। রফিককে র্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার সাথে আমীরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না তাও র্যাব তদন্ত করছে। আমীরুল ইসলাম ঝরা’র দূর সম্পর্কের ভাই। আমীরুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। র্যাবের ঐ সূত্র জানায়, সাভারে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়র বাড়িতে রফিক বসবাস করতেন। ঢাকার জুরাইনে রফিকের একটি ফ্ল্যাট আছে। এই ফ্ল্যাটের চাবি ছিল দ্বিতীয় স্ত্রী ঝরা’র কাছে। রফিক ঐ ফ্ল্যাটে তার প্রথম স্ত্রীর-সন্তানদের থাকতে দিতে চাইলে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কলহ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রফিক সাভারে এক আত্মীয় বাসায় থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে সাভারের ঐ বাড়িতে রফিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ঝরা’র বড়বোন স্নিগ্ধা ও তার স্বামী সাঈদ যান। সেখান থেকে তারা রফিককে ঝিনাইদহে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। ঐ সময় ঝরা ঢাকায় অবস্থান করলেও ঝিনাইদহে যাওয়ার বিষয়ে মোবাইল ফোনে রফিকের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে বলে র্যাব প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি ঘটনার দিন ঝরা’র পরিবারের সঙ্গে ঐ এলাকার চরমপন্থী দলের দুর্ধর্ষ ক্যাডার কালুর যোগাযোগ হওয়ার বিষয়টি র্যাব নিশ্চিত হয়েছে।