আজ বাদ আসর আম বয়ান

আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের ৪৭তম বিশ্ব ইজতেমা। গত বছরের ন্যায় এবারো টঙ্গী তুরাগ তীরে দুই পর্বের ৬ দিনের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম পর্বের ৩ দিনের বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিক বয়ান শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর। তবে আজ ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বাদ আছর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ইজতেমার আম বয়ান শুরু হবে। প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জানুয়ারি রবিবার। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ২য় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। ২০ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমা মাঠের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জিম্মাদার প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, এতে করে পুরো দুই সপ্তাহ ইজতেমার আমেজ থাকবে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকাজুড়ে। শুক্রবার জুম্মার নামাজে ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। এরইমধ্যে ইজতেমার প্রথম পর্বে শরীক হওয়ার জন্য দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে আসতে শুরু করেছেন। ১৬০ বর্গ কিলোমিটার বিশাল এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রথম পর্বের মুসল্লিদের জন্য চটের তৈরি পুরো ছাউনিকে ৪০টি খিত্তায় ভাগ করে বিভিন্ন জেলাওয়ারী মুসল্লিদের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের চলাচলের জন্য ছাউনির ভিতরে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি রাস্তা। ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে তুরাগ নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য আন্তর্জাতিক নিবাস। মূল ছাউনির নিচে মধ্যখানে তুরাগ নদীর তীর ঘেঁষে টিন, লোহার পাইপ ও কাঠ দিয়ে মূল বয়ান মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের জন্য এবছর সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৩৪টি টয়লেট, ১২৪টি গোসলখানা, ৩২টি অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১২টি নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন সাড়ে ৩ কোটি লিটার পানির সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তুরাগ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনী ৮টি ভাসমান পন্টুন ব্রীজ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দার ১২ হাজার সদস্য ৪ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। র্যাব ও পুলিশের বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার জন্য জেলাওয়ারী খিত্তা ভাগ করা হয়েছে। খিত্তাগুলো হচ্ছে: গাজীপুর খিত্তা নং-১, ২, ঢাকা ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, সিরাজগঞ্জ ১৩, নরসিংদী ১৪, ফরিদপুর ১৫, রাজবাড়ী ১৬, শরীয়তপুর ১৭, কিশোরগঞ্জ ১৮, রংপুর ১৯, নাটোর ২০, মেহেরপুর ২১, রাজশাহী ২২, গাইবান্ধা ২৩, জয়পুরহাট ২৪, লালমনিরহাট ২৫, হবিগঞ্জ ২৬, দিনাজপুর ২৭, সিলেট ২৮, চাঁদপুর ২৯, ফেনী ৩০, চট্টগ্রাম ৩১, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ৩২, বাগেরহাট ৩৩, কুষ্টিয়া ৩৪, নড়াইল ৩৫, চুয়াডাঙ্গা ৩৬, যশোর ৩৭, ভোলা ৩৮, বরগুনা ৩৯, ঝালকাঠি ৪০। ঢাকা মহানগরের জন্য আলাদা খিত্তা রয়েছে। গতকাল বুধবার ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, ময়দানের আনুষঙ্গিক সর্বশেষ প্রস্তুতিকাজ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসক নূরুল ইসলাম বলেন, দুই পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।