অল্পের জন্য রেকর্ডের দেখা পেলেন না
মার্শাল-মেহরাব
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
অল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি রানের বিশ্ব রেকর্ডের সাক্ষী হতে পারল না বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড থেকে মাত্র ২৬ রান দূরে থাকতেই থেমে গেল মার্শাল-মেহরাবের ৪৯৪ রানের জুটি। তাই অক্ষত রয়ে গেল ভারতের চেতেশ্বর পুজারা ও রবীন্দ্র জাদেজার পঞ্চম উইকেট জুটিতে সৌরাষ্ট্রের পক্ষে ২০০৮-০৯ সালে তোলা ৫২০ রানের রেকর্ডটি।
ক্যারিয়ারসেরা ২১৮ রানে মেহরাব জুনিয়র আউট হওয়ার মাত্র নয় রান পর ২৮৯ রানে ফিরে যান মার্শাল আইয়ুব। তার বিদায়ে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের তৃতীয় দিনে সাত উইকেটে ৬৫৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দেয়। দিনের অবশিষ্ট সময়ে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংসে এক উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬১ রান। দলটি এখনো পিছিয়ে আছে ৪৯৪ রানে।
বগুড়ায় গতকাল খেলা শুরু হয়েছিল একটু ভিন্ন আমেজে। ৪৬৯ রানে অপরাজিত মার্শাল আইয়ুব ও মেহরাব জুনিয়র জুটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পঞ্চম উইকেট জুটির বিশ্ব রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন কি-না দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলেন সবাই। কিন্তু নাবিল সামাদের চমত্কার একটি বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হলেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। সঙ্গে সঙ্গে ভেঙ্গে গেল মার্শাল আইয়ুবের সাথে মেহরাবের গড়া ৪৯৪ রানের পার্টনারশিপ।
ব্যক্তিগত ২১৮ রানে আউট হন মেহরাব জুনিয়র। ২৭টি চার ও ২টি ছক্কায় তিনি এ রান করেন। মেহরাব বিদায়ের পর মাত্র নয় রান যোগ করেই সাজঘরে ফেরেন তার সফল সঙ্গী মার্শাল আইয়ুব। ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকতে আউট হন মার্শাল। ৩০টি বাউন্ডারি এবং চারটি বিশাল ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। দলীয় ৫৯৯ রানে মার্শালের বিদায়ের পর ইনিংস ঘোষণার সময় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন শুভাগত হোম। পূর্বাঞ্চলের নাবিল সামাদ ১৬১ রানে নেন ৪ উইকেট।
পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৮১ রানে অপরাজিত আছেন নাফিজ ইকবাল। মমিনুল খেলছেন ২২ রানে। ৪৯ রান করে আউট হয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস। মোশাররফ হোসেন রুবেল একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন।
আজ ম্যাচের চতুর্থ ও শেষদিন। সুতরাং ম্যাচের যে চিত্র তাতে ড্র হচ্ছে আগামই বলা যায়। আর ওয়ালটনের ফাইনালও প্রায় নিশ্চিত। কেননা এই ম্যাচের আগে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে ছিল ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল:প্রথম ইনিংস-১৫৯.৪ ওভারে ৬৫৫/৭ ডিক্লেয়ার (মার্শাল আইয়ুব ২৮৯, মেহরাব জুনিয়র ২১৮, শুভাগত হোম ৫১*, শামসুর রহমান শুভ ২৩, ইলিয়াস সানি ২০, মোহাম্মদ আশরাফুল ৪, নাবিল সামাদ ৪/১৬১, তাপশ বৈশ্য ১/১৬১)।
ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল:প্রথম ইনিংস- ৪২ ওভারে ১৬১/১ (নাফিস ইকবাল ৮১*, শাহরিয়ার নাফিস ৪৯, মমিনুল হক ২২*, মোশাররফ রুবেল ১/৪৪)।