রপ্তানি হচ্ছে ভালুকার সবজি

ভালুকার উত্পাদিত সবজি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশে এবং দেশের বাইরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভালুকা উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সবজির আবাদ ও উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বছর দশেক পূর্বেও এ অঞ্চলের কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে ধারণার অভাবে তাদের কৃষি জমিতে ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ জাতীয় ফসলের আবাদ করলেও বছরের বাকি অংশ জুড়ে ঐ জমিটুকু পতিত পড়ে থাকত। বড় বড় চাষিরা তাদের অল্প কিছু জমিতে সবজির চাষ করলেও এর চাহিদা স্থানীয় ভোক্তাদের মাঝে সীমিত ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এবং উত্পাদিত সবজির প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়ায় ভালুকা উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা এখন সবজি চাষকে তাদের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে গ্রহণ করেছে। অনেক ক্ষুদ্র-প্রান্তিক চাষি এখন স্বল্প ব্যয়ে সেচ যন্ত্র ব্যবহার করে সারা বছর তাদের জমিতে সবজি আবাদ করে নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিস ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাবছর সবজি উত্পাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মান সম্পন্ন কৃষি উপকরণ সংগ্রহের জন্য কৃষকদের সাথে কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের যোগসূত্র স্থাপন ও চাষিদের নাবী সবজি চাষ, উত্পাদিত পণ্য বাছাইকরণ এবং বিক্রীত পণ্যের আগাম বাজার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনে যৌথভাবে পণ্য বিক্রয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভালুকা থেকে বাজারজাতকৃত সবজির শতকরা ১০ ভাগ স্থানীয় ভোক্তারা ক্রয় করছেন। বাকি ৯০ ভাগ সবজি পাইকারগণ ক্রয় করে রাজধানীসহ দেশের অন্যত্র সরবরাহ করছে। অপরদিকে ভালুকায় উত্পাদিত সবজির মধ্য থেকে ভিআইপি সবজি হিসেবে বরবটি ও করলা দেশের বাইরে বাহরাইন ও কুয়েতে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের ২১টি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ বরবটি ও করলা সংগ্রহ করে পরিষ্কার, বাছাই ও গ্রেডিং করে মান সম্মতভাবে প্যাকিং করে উড়োজাহাজে দেশের বাইরে প্রেরণের উপযোগী করে তোলে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ভালুকা উপজেলার উথুরা, নারাঙ্গী, হবিরবাড়ী, পারাগাঁও, মাস্টারবাড়ী, ধীতপুর, রাংচাপড়া, ধলিয়া, পানিহাদি, বিরুনীয়া ও গোয়ারী গ্রামের ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি হিসেবে শিম, কপি, টমেটো, গাজর, লাউ, বেগুন, পটল, করলা, বরবটি, শসা ও চিচিংগার চাষ করেছে।