জলদস্যুর হাতে নিহত বরগুনার ১১ জেলের সন্ধান মেলেনি

শনিবার রাতে বঙ্গোপসাগরের সোনারচর নামক স্থানে ‘এফবি ইসরাত’ নামে একটি ট্রলারে হামলা চালিয়ে ১১ জেলেকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা জলদস্যুরা। তবে এখন পর্যন্ত এসব জেলের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার পর মিয়ানমারে পালানোর সময় আবদুল হামিদ নামের একজন রোহিঙ্গা জলদস্যুকে আটক করেছে উখিয়ার ইনানী ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে হামিদ ১১ জেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার খবরে পাথরঘাটা জেলে পল্লীতে শোকের ছায়া নামে। বরগুনা জেলা জেলে সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি জানান, শুক্রবার বিকালে ‘এফবি ইসরাত’ ট্রলারটি ১৬ জন জেলে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। শনিবার রাতে সোনার চর এলাকায় পৌঁছলে ঐ ট্রলারেরই পাঁচ রোহিঙ্গা জেলে ঘুমন্ত বাকি জেলেদের ওপর হামলা চালায়। মান্নান মাঝি জানান, তার ধারণা, রোহিঙ্গারা ট্রলার ও মালামাল লুটের জন্য এসব জেলেকে হত্যা করেছে। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সাঈদ মিয়া জানান, হামিদ পুলিশকে জানিয়েছে, ট্রলারের পাঁচজন রোহিঙ্গা মূলত জলদস্যু দলের সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাতে কিরিচ দিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি জেলেকে হত্যা করে লাশ সাগরে ফেলে ট্রলার নিয়ে তারা পালিয়ে যাচ্ছিল। পাথরঘাটা থানার ওসি আজম খান ফারুকি জানান, শনিবার ট্রলারের মালিক সেন্টু খান জিডি করেন। তবে এখনো জেলেদের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁদের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। ট্রলার মালিক সেন্টু খান জানান, শনিবার রাতে ট্রলারের মাঝি আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বন্ধ হয়। রবিবার কক্সবাজার থেকে মোবাইল ফোনে জানতে পারেন, তার ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে এবং মাঝি-মাল্লারা নিখোঁজ। এখন পর্যন্ত এসব জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। সেন্টু খান জানান, রোহিঙ্গারা জেলে সেজে ট্রলারে ডাকাতি করার জন্যই সাগরে যায়। নিখোঁজ জেলেরা হচ্ছে: পাথরঘাটা উপজেলার বেলাল, সৈয়দ আলম মাঝি, সোহাগ, জাফর, আব্বাস, বাবুল মিস্ত্রি ও কক্সবাজারের জসীম। অপর তিন জেলের নাম জানা যায়নি। ১১ জেলে হত্যার খবরে স্বজনদের আহাজারিতে পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের জিয়া মাঠ সংলগ্ন এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। রবিবার সকালে জেলেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জেলে শাহ আলমের স্ত্রী ফরিদা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জেলে সোহাগ, জাফর ও বাবুলের পরিবারে এখন শোকের মাতম। তাদের সবার দাবি: অন্তত মৃতদেহটি দেখতে চাই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আখতার সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে জানান, জেলে ও জলদস্যুদের সন্ধানে পুলিশ টিম কাজ করছে।