আবার পাকিস্তানের সৈন্য নিহত

কাশ্মীরে ভারত-পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় সেনাদের গুলিতে আবার পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ কথা জানিয়েছে। গত পাঁচদিনের মধ্যে এটি দুই দেশের তৃতীয় হামলার ঘটনা। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের চার সৈন্য নিহত হয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সৈন্য হতাহতের ঘটনায় জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এসব ঘটনার পর গতকাল ভারতের কিছু ট্রাক পাকিস্তানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। খবর বিবিসি, এনডিটিভি ও টাইম্স অব ইন্ডিয়ার। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, গতকাল বিকালে কোন ধরনের উস্কানি ছাড়াই ভারতের সেনারা হাবিলদার মহিউদ্দিনের ওপর আক্রমণ করে। এতে তার মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সৈন্যদের হামলায় ভারতের দুই সৈন্য নিহত হয় ও দু’জন আহত হয়। এর মধ্যে এক সৈন্যের শিরশ্ছেদ করা হয়। এর আগে রবিবার ভারতের সৈন্যদের হামলায় পাকিস্তানের এক সৈন্য নিহত হয়। তবে দুই দেশই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রথম দুটি ঘটনার পর পাকিস্তান জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে এন্টনি বলেন, কোন প্ররোচনা ছাড়াই পাকিস্তানের সৈন্যদের হামলা আন্তর্জাতিক ইস্যু হতে দেয়া হবে না এবং জাতিসংঘের তদন্তের অনুমতি দেয়া হবে না। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন বলেন, ভারত ও পাকিস্তানে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের (ইউএনএমওজিআইপি) কোন ভূমিকা নেই। তিনি আরো বলেন, দুই দেশের সীমান্তে পাকিস্তানের অনুপ্রবেশ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের হার গত কয়েক মাসে বেড়েছে। তবে এসব ঘটনায় ভিসা প্রদানের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে বলেন, লস্কর-ই-তৈয়বা নেতা হাফিজ সাঈদকে কয়েকদিন আগে কাশ্মীরে দেখা গেছে। এসব ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানকে আর যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্যদের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘটনাকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত না করতে দুই দেশের উদ্দেশে আহ্বান জানায় পত্রিকাটি। মঙ্গলবার পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে দুই ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে অমানবিক উল্লে¬খ করে এর তীব্র নিন্দা জানায় ভারত। গত বুধবার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের দূতকে ডেকে পাঠায় ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ পাক-ভারত সীমান্তে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরকে বিভক্তকারী নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে এ হত্যাকাণ্ডকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনা আর বেশি বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক যখন একটু উষ্ণতার দিকে যাচ্ছিল তখনই এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।