দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়াও বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি দিচ্ছেন

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মূলত, বিগত চার বছরের শাসনামলে সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যর্থতা ও দুর্বলতার দিকগুলো সবিস্তারে তুলে ধরাই তার লক্ষ্য। তবে এই বক্তব্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেবেন, নাকি জাতীয় সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে রাখবেন, সে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। আজ শুক্রবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগেও সরকারের বিভিন্ন বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মিডিয়ার মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ‘জাতির উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতাও বক্তব্য রাখতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ জানা গেছে, সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে যেখানেই বক্তব্য রাখেন না কেন, সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া সম্ভাব্য এই বক্তব্যে খালেদা জিয়া ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি পুনর্ব্যক্ত করবেন। এজন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপনের দাবিও জানাবেন তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, কোন উপায়ে হবেন— তা নিয়ে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ আয়োজনের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান রাখবেন। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এই বক্তব্য তুলে ধরা হবে, নাকি সংসদে বক্তব্য রাখা হবে- তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে বিএনপি। দলের উদারপন্থি জ্যেষ্ঠ নেতারা ও বেশিরভাগ সংসদ সদস্য চাচ্ছেন আসন্ন অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা তার এই বক্তব্য উপস্থাপন করুন। তবে কট্টরপন্থি ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারা বেশিরভাগ নেতার মত ভিন্ন। তারা মনে করছেন, অধিবেশন শুরু হতে এখনও ১৫ দিন বাকি। সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের দু’ তিন দিন পরেই মিডিয়ার মাধ্যমে এই বক্তব্য তুলে ধরা হলে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। যুক্তির পক্ষে তারা এও বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রী আজ কী বক্তব্য রাখেন তা দেখার পর বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক জবাব দেয়া উচিত। আর এ জবাব দিতে বেশি সময় নেয়া হলে কিংবা সংসদের অপেক্ষায় বসে থাকলে তা উষ্ণতা হারাবে বলে মনে করছেন এই অংশের নেতারা। সংসদের আসন্ন অধিবেশনে যোগ দেয়া না দেয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের চাপে কিংবা আমন্ত্রণে আমরা সংসদে যাব না। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে ও জনস্বার্থেই সংসদে যাব। এবারের অধিবেশনে যোগ দেয়ার বিষয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।’ বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ওয়ারি সরকারের চার বছরের ব্যর্থতার দিকগুলো এতে বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের খতিয়ানও থাকবে তার বক্তব্যে। পাশাপাশি নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম এবং বিদ্যুতের মূল্য সম্পর্কে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্র সন্নিবেশিত করা হচ্ছে। বিগত সময়ে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালের সংখ্যার সঙ্গে বর্তমান বিরোধী দলের এই পর্যন্ত হরতালের সংখ্যারও একটি তুলনামূলক চিত্র থাকছে তার বক্তব্যে। সূত্র জানায়, মোটা দাগের যেসব ইস্যুতে সরকার চার বছরে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে, সেসব বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ের মধ্যে থাকছে- পিলখানা ট্র্যাজেডি, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি প্রসঙ্গ, বিশ্বজিত্ হত্যা, রামুতে বৌদ্ধ বসতিতে আক্রমণ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুম এবং রফিকুল ইসলাম মজুমদার হত্যার ঘটনা ইত্যাদি।