শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৫
শিক্ষা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে। মানুষ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির শিক্ষার প্রয়োজন নেই। এজন্য শিক্ষার এত বেশি গুরুত্ব। অন্য সব প্রাণী যেভাবে জন্মে ঐভাবে বেড়ে ওঠে। শুধুমাত্র মানুষকে জ্ঞানগুণে, বিদ্যায় প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে উঠতে হয়। মহান সৃষ্টিকর্তা এজন্য মহানবী (স)-এর ওপর সর্বপ্রথম ওহী হিসাবে যে বাণীটুকু পাঠালেন তা ছিল শিক্ষা বিষয়ক বাণী— “পড়, তোমার সৃষ্টিকর্তার নামে, যিনি তোমাকে জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন” (আলাক-এর আয়াত)। আমাদের সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন এবং অবৈতনিক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ২৭ ডিসেম্বর। রেজাল্টের দিন মনে হয়েছে মুহূর্তে জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ, প্রতিটি জনপদ।
ছোট ছোট বাচ্চারা, বলা যায় এখনও মায়ের কোলে। অথচ সারাদেশে প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে তাদের। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ৯৭.৩৫ শতাংশ এবং ইবতেদায়ী পরীক্ষায় ৯২.৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সারাদেশে ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯শ ৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে ৯২ হাজার ৩২৮টি স্কুল থেকে, যার মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার স্কুলের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। আবার ৭১০টি স্কুলের কেউ পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে ১০টি। প্রায় ৬৫ হাজার ৭শ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় ফেল করেছে। একটি শুভ লক্ষণ হচ্ছে, সফল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় ২ লাখ ১৯ হাজার বেশি। বাংলাদেশের জন্য এটি এক বিরাট অর্জন এবং গর্বের বিষয়ও বটে। এবার প্রাথমিক পর্যায়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বরাবরের মতো এবারও গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করেছে। ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার হার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। অনেকের ধারণা, শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে। শিক্ষক, অভিভাবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং স্কুলগুলোর মধ্যে ভালো ফলাফল করার প্রতিযোগিতা এতদূর এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। গ্রামের স্কুলগুলোকে আরো এগিয়ে যেতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষাই মূলত জাতির মেরুদণ্ড। এটি জাতীয় জীবনের মৌলিক ভিত্তি। অশিক্ষার অন্ধকার নৈতিক মূল্যবোধকে কলুষিত করে। প্রাথমিক শিক্ষার আলোকে দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের অনেক গ্রাম ও চর, হাওর আছে যেখানে কোনো স্কুল গড়ে ওঠেনি। এ সমস্ত গ্রাম ও চরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রয়োজনে অবহেলিত জনপদে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা, মৌলিক শিক্ষা কোর্স চালু করতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক যতটুকু শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিতে পারেন, অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক ততটুকু শিক্ষা দিতে পারেন না। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে গণশিক্ষার কোর্স নেই বললেই চলে, অথচ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগের মতো গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা চালু করা উচিত। নতুন শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো মজবুত ও ঢেলে সাজালে আমরা একটি আলোকিত বাংলাদেশ পাবো।
ঢাকা