রৌমারীতে অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৮
রৌমারীর ইটভাটাগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে গাছের গুঁড়ি। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। সরকারের নির্দেশ রয়েছে, আবাদি জমিতে কোনোভাবেই ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না এবং ভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না। কিন্তু উপজেলার ইটভাটাগুলো সরকারের এ নির্দেশ অমান্য করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনে ইটভাটা স্থাপনের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা রয়েছে। এগুলো হল: ইটভাটা স্থাপনের জন্য আবাদ করা হয় না এমন জমি ব্যবহার করতে হবে। ভাটায় ইট পোড়াতে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। নির্দিষ্ট মাপের চিমনি ব্যবহার করতে হবে। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো যাবে না। আবাদি জমির ফসল যাতে ক্ষতি না হয় এ জন্য ফসলি জমি ও জনবহুল এলাকা থেকে নির্দিষ্ট দূরে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে।
সরেজমিনে রৌমারী উপজেলার ইটভাটাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ১৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রৌমারী উপজেলায় রয়েছে ৭টি ইটভাটা। আর প্রতিটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে আবাদি জমিতে। সবগুলো ইটভাটায় এখন পুরোদমে চলছে ইট তৈরি ও পোড়ানোর কাজ। ইট তৈরির মাটি আনা হচ্ছে বিভিন্ন আবাদি জমির উপরি ভাগের (টপসয়েল) অংশ থেকে। টুকরো টুকরো ফসলি জমি দখলে নিয়ে চলছে ইটভাটার কার্যক্রম। কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে রৌমারীর ৭টি ইটভাটায় প্রায় ১০০ একর উর্বর কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে ইটভাটা বাড়তে থাকলে গোটা উপজেলার কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভাটার মালিকরা অনেকটা জোর করেই তাদের আবাদি জমি কেড়ে নিচ্ছে।
উপজেলার ঝগড়ার চর এলাকায় ‘এসবি ব্রিকসে’র জমিতে কয়েকশ’ টন গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। গ্রাম থেকে গাছ কেটে ভাটায় জড়ো করা হচ্ছে। ইট পোড়ানোর কাজে এসব কাঠ ব্যবহার করছে ভাটার মালিক। ভাটার শ্রমিকরা জানান, আরো গাছ কেনা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এই ভাটা করা হয়েছে সম্পূর্ণ আবাদি জমিতে। অভিযোগ রয়েছে, এই ইটভাটার মালিক আশপাশের জমির মালিকদের জোরপূর্বক জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছে। এরই মধ্যে প্রায় ১০ একর আবাদি জমি দখলে নিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
অন্য ভাটাগুলোতে দেখা গেছে, ধোঁয়ার সঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়লার টুকরো ও ছাই আবাদি জমিতে পড়ছে। এতে প্রতিবছরই আবাদ নষ্ট হচ্ছে। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বার বার। কৃষকরা প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পাননি বলে জানান আব্দুর রহিম নামের এক কৃষক। উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের ওই কৃষক আরো জানান, ভাটার কাছেই তার দুই একর জমি রয়েছে। অনেক দিন থেকে তিনি আবাদ করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে এসবি ব্রিকস-এর মালিক সাহেদ হোসেন সোনা বলেন, ‘আবাদি জমিতে ইটভাটা শুধু আমার একার নয়। আরো তো আছে। তাদের কাছে যান তারপর আমাকে বলুন।’ একইভাবে রৌমারীতে আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করেছে আরো অনেকে। রৌমারী বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোকশেদুল হক বলেন, ‘ইটভাটাগুলোতে অবাধে কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি আমিও শুনেছি। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের কেউ কিছু না বললে আমি একা কি করব।’ রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আবাদি জমিতে ইটভাটা করার সরকারি নিয়ম নেই। আমি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’