রাসেল ও জামালের গোলশূন্য ড্র

একটা ফুটবল ম্যাচে উত্তেজনার যা কিছু থাকা দরকার তার সবই ছিল শেখ রাসেল ও শেখ জামালের ম্যাচে। শুধু ছিল না গোল। তীব্র ঠাণ্ডায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রায় কয়েক হাজার দর্শক হাজির থাকলেও গোলপানে দারুণ সব শট, এমনকি উত্তেজনার মধ্যেও গোল না পেয়ে তারা হতাশ হন। তবে এই গোলশূন্য ড্রয়ে লাভ হয়েছে আবাহনীর। কারণ সাত খেলায় আবাহনীর অর্জন ১৬ পয়েন্ট এবং শেখ রাসেলেরও তাই (১৬)। তবে সমান ম্যাচে শেখ জামাল ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল। শেখ জামাল অবশ্য গতকাল শুক্রবার শেখ রাসেলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ভালো খেলেছে । গোলের সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু রাসেলের গোলকিপার বিপ্লব অতি সর্তক থাকার কারণে জামালের নাইজেরিয়ান সানডের শট বাইরে যায়। রাসেলও একটু রক্ষণভাগে জোর দিয়ে জামালের মোকাবিলা করে। কর্নার পেলে সবাই উঠে গেছে উপরে। রক্ষণভাগ ছেড়ে জামালের গোলমুখে দেখা গেছে সার্বিয়ান বোজারন পেত্রিচকে। ২৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে একটা গোলের সুযোগ পেলেও সেটা দুর্ভাগ্যের কারণে জালে জড়ায়নি। এমিলির গড়ে দেয়া বলে হাইতির স্ট্রাইকার সনি নরডে শট করেন। বলটা মাটি গড়িয়ে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধটা বেশ সর্তক হয়ে খেলে জামাল। গোল করতে পারি বা না পারি গোল খাবো না— এমন একটা মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে দলটি। তারা সফলও হয়। কিন্তু সেটা সহজে হয়নি। ভালো খেলেছে রাসেল। বিপক্ষ খেলোয়াড়দের জনে জনে পাহারার কৌশল পরিবর্তন করে আক্রমণে গিয়েছিল রাসেল। কিন্তু জামালের গোলকিপার আত্মবিশ্বাসী থাকায় জালে বল ঢুকেনি। মরক্কোর জনাবির ফ্রি কিক লুফে নিয়েছেন বুকে। মামুুনুল ইসলামের ফ্রি কিক থেকে জটলায় বল পড়লে বদলি ফরোয়ার্ড রাজন গোলপোস্টে শট নেয়ার আগেই আবার বাধা হয়ে দাঁড়ান সেই গোলকিপার মোস্তাক। তার খেলা দেখে বুঝাই গেল না এই সেই গোলকিপার মোস্তাক, যার ভুলের কারণে ব্যাংককে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯ মিনিটে তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। কাল শেখ রাসেলের অভিজ্ঞ গোলকিপার বিপ্লবের মতো তিনি ছিলেন দারুণ ফর্মে। ম্যাচসেরা নৈপুণ্য উপহার দিয়েছেন দুই দলের দুই গোলকিপার। তবে এই ম্যাচটা আরো উপভোগ্য হতে পারত, যদি রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু অহেতুক বারবার বাঁশি না বাজাতেন। তার দুই সহকারী মিজানুর রহমান এবং শহিদুল ইসলাম লালু দুই দলের আক্রমণ হলেও পতাকা তুলে খেলা থামিয়ে দিয়েছেন। খেলার সৌন্দর্যটা অনেকখানি নষ্ট হয়েছে। শেখ রাসেলের কোচ মারুফ মনে করেন রেফারি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে বিপরীত কথা বলেন জামালের সভাপতি মঞ্জুর কাদের। তিনি খেলা শেষে বলেন, ‘গুড রেফারিং।’ তবে তার দলের কোচ নাইজেরিয়ান জোসেফ আফুসে রেফারিং বিষয় জোরালো কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মোদ্দাকথা হচ্ছে ম্যাচ ড্র হওয়ায় উভয় দলই খুশি। প্রথমপর্বে শেখ জামালের শেষ ম্যাচ ব্রাদার্সের সাথে। আর রাসেল খেলবে সকার ক্লাবের বিরুদ্ধে। শেখ জামাল: বিপ্লব, মামুন মিয়া, আব্বাস ইউনিসা, বোজান পেত্রিক, নাহিদুল ইসলাম (লিংকন), তারিক জনাবি, মামুনুল ইসলাম, সনি নরডে, মিঠুন, আনোয়ার (রাজন), এমিলি। শেখ জামাল: মোস্তাক, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ইয়ামিন আহমেদ, হাসান আল মামুন, রায়হান হাসান, মোহম্মদ কন্টে, কেস্তার আকন, আলমগীর রানা (নাইমুর রহমান শাহেদ), মাইক তোজেরি (মাসুদ রানা), শাকিল, সানডে চিজোবা। রেফারি:তৈয়ব হাসান। আজকের খেলা:ব্রাদাস-আরামবাগ (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বিকাল ৪টা ৩০)।