ভাষণে নির্বাচন নিয়ে কথা নেই বিরোধদের প্রতি আহ্বানও নেই

জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার কোন পদ্ধতির হবে-অন্তর্বর্তী, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক, নাকি বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। এমনকি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বিরোধী দলের প্রতি কোনো আলোচনারও আহ্বান জানাননি প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দিন খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে টিভির সামনে বসেছি, প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য শুনলাম। আশা করেছিলাম আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি কিছু বলবেন, তার কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক কিছু শুনবো। নিশ্চয়ই দেশের আরও অনেকই আমার মতো এই প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এনিয়ে কোনো কথা না থাকায় আমরা আশাহত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হতে পারে।’ প্রায় তিন হাজার শব্দের দীর্ঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যত তার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বিগত চার বছরের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরেছেন, পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। ভাষণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে তার সরকারের দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রধান সংকট, যেটিকে কেন্দ্র করে আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে, অর্থাত্ আগামী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি প্রধানমন্ত্রী। এমনকি এনিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনারও ইঙ্গিত নেই তার ভাষণে। সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো বক্তব্য না থাকার বিষয়টি নিঃসন্দেহে আমাদের নিরুত্সাহিত করেছে। নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই, সঙ্গত কারণেই জাতি আশা করেছিল- এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলবেন, সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তার কোনো উদ্যোগের কথা দেশবাসীকে জানাবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় জাতি অবশ্যই নিরুত্সাহিত হয়েছে। এভাবে নির্বাচনের মতো সবচেয়ে বড় ইস্যুকে প্রধানমন্ত্রীর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রাজনীতিতে আরও অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে।