২০১৬ সালের মধ্যে সব পরিবার
আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করবে
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৮
১৯৯৩ সালে দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়োডিন ঘাটতির হার ছিল ৬৯ শতাংশ। বর্তমানে তা ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ইতিমধ্যে দেশের ৮৪ শতাংশ পরিবারকে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্যলবণ ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। বিসিকের সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্প সফল হলে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ লবণে পরিমিত পরিমাণ আয়োডিন মিশ্রণ এবং শতভাগ পরিবারকে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্যলবণ ব্যবহারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
গতকাল সকালে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্যলবণ উত্পাদনে মান নিয়ন্ত্রণ ও মান নিশ্চিত প্রযুক্তির প্রয়োগ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিকের সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্প ( সিআইডিডি) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভ্ড নিউট্রিশন (গেইন) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিসিক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনসুর আলী শিকদার, গেইনের বাংলাদেশ ব্যবস্থাপক বসন্ত কুমার কর, সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু তাহের খান বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় আয়োডিনযুক্ত লবণ উত্পাদন, মাননিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যা দূরীকরণে সমাধানের বিষয়াবলী উঠে আসে। আয়োডিনযুক্ত লবণ উত্পাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে একটি গাইড লাইনের খসড়া উপস্থাপন ও এর উপর সুপারিশমালা পেশ করে গেইন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, অপরিশোধিত লবণ উত্পাদনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বর্তমানে মোট জাতীয় লবণ চাহিদার শতকরা ৯৫ ভাগ দেশীয় উত্পাদন থেকে যোগান দেয়া হচ্ছে। দেশের ৪৫ হাজার পরিবার সরাসরি লবণ চাষের সাথে জড়িত। চাষিদের মূল্য সহায়তা দিতে মহাজোট সরকার জাতীয় লবণ নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় লবণ মিল মালিকদেরও সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বিসিকের সিআইডিডি ৩য় পর্যায় প্রকল্পটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ, গেইন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ইনিসিয়েটিভ (এমআই)-এর সহায়তায় দেশব্যাপী বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুইদিনব্যাপী আয়োজিত এ জাতীয় কর্মশালায় দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ, মান বিশেষজ্ঞ, কারিগরি পরামর্শক, টেকনিশিয়ান ও লবণ মিল মালিকরা অংশ নিচ্ছেন।