চক্ষু চিকিত্সায় প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৮
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৪ কোটি মানুষ অন্ধ এবং ২৪ কোটি মানুষ স্বল্প দৃষ্টিতে ভুগছেন। যাদের ৯০ শতাংশ লোক উন্নয়নশীল দেশে বাস করেন। অথচ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সা পেলে এ সকল রোগীর ৮০ শতাংশেরই স্বল্প দৃষ্টি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানানো হয় বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির তৃতীয় বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম মোস্তাফিজুর রহমান, সার্ক একাডেমী অব অফথোলমোলজির সভাপতি অধ্যাপক আভা হোসেন, বাংলাদেশ অফথোলমোলজির সভাপতি অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ অফথোলমোলজির সাধারণ সম্পাদক ড. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির প্রথম জার্নালের মোড়ক উন্মোচন এবং ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা হলো: www. bgsbd.net.
উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, চক্ষু চিকিত্সায় বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। মেধাবী তরুণ প্রজন্ম সচেতনতার সাথে দক্ষ চিকিত্সাদানে দেশের অন্ধত্ব ও স্বল্প দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষের চিকিত্সা সেবাদানে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অদূর ভবিষ্যতে এই চিকিত্সকরা দেশে উন্নত বিশ্বের মতো চিকিত্সা দিতে সক্ষম হবেন।
অধ্যাপক এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাঙালি জাতি সবদিক দিয়ে এগিয়ে গেছে এবং এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বে অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ গ্লকোমা যা নীরব অন্ধত্ব নিয়ে আসে। তাই চক্ষুু চিকিত্সকের কাছে কোনো রোগী এলে প্রথমেই তার চোখের প্রেসার মাপা উচিত। অধ্যাপক আভা হোসেন বলেন, এখন রেসিডেন্সী ট্রেনিংয়ে নারীর উপস্থিতি মোট উপস্থিতির ৬০ শতাংশ। এক সময় আমিই একমাত্র ফোলোশিপ করা নারী চিকিত্সক (চক্ষু) ছিলাম। এখন অনেকেই ফেলোশীপ করছে। অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জনগণের ক্ষমতায়নে উন্নয়নের মডেল বিশ্ববাসী গ্রহণ করেছে। অটিজমের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেছেন, বাংলাদেশ সব দিক উন্নয়ন সূচকে ভারতের থেকে এগিয়ে আছে। কিছুদিনের মধ্যে গোপালগঞ্জে ১০০ শয্যার চক্ষুু হাসপাতাল চালু হবে। যেখানে ৯৪ জন কনসালটেন্টের চাকরির ব্যবস্থা হবে। অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম বলেন, নিরব অন্ধত্বের কারণ গ্লকোমা। গ্লকোমা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব। গ্লকোমা রোগের দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা এবং উন্নততর চিকিত্সার জন্য চিকিত্সকদের জ্ঞানকে প্রতিনিয়তই আপডেট করতে হবে। অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটি শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও সমান পরিচিতি অর্জন করেছে। চতুর্থ বিশ্ব গ্লকোমা সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। সেখানে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আটজন সদস্য তাদের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া প্যাসিফিক গ্লকোমা সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে সোসাইটির প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। আগামী ১৭ থেকে ২০ জুলাই কানাডার ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম বিশ্ব গ্লকোমা সম্মেলন। সেখানে বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করবে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।