সমীরনের দ্বিতীয় জীবন

সমীরন। সত্তর ছুঁই ছুঁই করছে বয়স। স্বামী অছিমুদ্দিন, অবিবাহিত তিন মেয়ে, ছেলে আর ছেলের বউ নিয়ে নুন আনতে পানতা ফুরোনো সংসার। দিনমজুর ছেলের সামান্য আয় দিয়ে তারাই চলতে পারে না। তাই পেটের খিদা মেটাতে অছিমুদ্দিনকেই বৃদ্ধ বয়সে করতে হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম। এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের ধকল কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। সবকিছু পেছনে ফেলে একদিন তিনি মারা যান। সমীরনের পরিবারে নেমে আসে চিন্তার আঁধার। পেট তো হারানোর ব্যথা বোঝে না। সে খেতে চায়। আর সেই পেটে খাবারের জোগান দিতে সমীরন মানুষের বাড়িতে কাজ নেন। তিন মেয়েকে কাজ নিতে হয় গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন বাড়িতে। তারপর কষ্টেসিষ্টে তিন মেয়ের বিয়ে দেন। ততদিনে পরিশ্রম আর বয়সের ভারে ন্যূব্জ তিনি। এদিকে পেটের খিদায় অস্থির দেহমন। বাধ্য হয়ে একদিন সমীরনকে বেঁচে থাকতে বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি। বেঁচে থাকার এ গল্প ১৯৯৫ সালের। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় সমীরনের জীবনে নতুন আরেক গল্প। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেন। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে কনসার্ন ইউনিভার্সালের দিকনির্দেশনায় ও ইন্টারকোঅপারেশনের কারিগরি সহযোগিতায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের “দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ” প্রকল্প থেকে হতদরিদ্র হিসেবে ১৩,৬৮০ টাকা ভাতা হিসেবে পেয়ে দু’টো ছাগল কেনেন। এরপর থেকে অন্যভাবে লিখিত হতে থাকে সমীরনের জীবনের গল্প। পেটের ভাতের পাশাপাশি থাকার জায়গাও হয় পাকাপোক্ত। বর্তমানে ছাগল পালনের পাশাপাশি ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে উজানপাড়া বাজারে দিয়েছেন ছোট্ট একটি মুদির দোকান। এখন তিনি ছাগল পালন আর দোকানে মালামাল বিক্রির লাভ দিয়েই স্বাচ্ছন্দে কাটাচ্ছেন দিন।