প্লে-ব্যাকে ‘বিদেশি শিল্পী’ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে

অডিও বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো প্রকাশিত অ্যালবাম আলোচনায় আসছে না। আর এই প্রবণতায় বছর কয়েক আগে বিভিন্ন উত্সবে অ্যালবাম প্রকাশ পেলেও সেই প্রবণতাতেও সাফল্যের কোনো গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। আর ইদানীং তরুণ কণ্ঠশিল্পীদের ভেতরে আরও একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে তা হলো—যেকোনো মূল্যে কলকাতায় অ্যালবাম রিলিজ দেওয়া। এই প্রবণতায় কোনো শিল্পীরই তেমন কোনো লাভ না হলেও অজানা এক সোনার হরিণ খোঁজার আশায় যেন শিল্পীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন। আর এর মূল কারণ দেশীয় অডিও শিল্পে প্রফেশনাল প্রডিউসারের সংকট। সম্প্রতি জুয়েল মোর্শেদ কলকাতার সোমলতা ও তার বোন সোমচন্দার সাথে ডুয়েট গান গেয়ে সেখানকার একটি অডিও প্রতিষ্ঠানে অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এর বাইরে অধিকাংশ চলচ্চিত্র প্রযোজক নিজেদের চলচ্চিত্রের আলাদা প্রচারণার স্বার্থেই ভারতীয় শিল্পীদের নিয়ে আসছেন চড়ামূল্যে। অথচ প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের রিয়েলিটি শো থেকে গড়ে প্রায় অর্ধশত শিল্পী আসছেন তাদেরকে কেউই কাজে লাগাচ্ছেন না। সাম্প্রতিককালে বাংলা চলচ্চিত্রে গেয়েছেন শান, জুবিন, সোমলতা, অনুপম রায়সহ অনেকে। চলচ্চিত্রে ব্যবহূত ও প্রকাশিত এই সকল গানের একটিও শ্রোতাদের ভেতরে কোনো গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে কেন কোন লাভে প্রায় ১০ গুণ বাজেটে বাইরের শিল্পীদের গান করানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এ প্রসঙ্গে তরুণ কণ্ঠশিল্পী সুরকার কাজী শুভ বলেন, ‘এই ব্যবসাটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমাদের দেশে যারা গান করছি, তাদের নিজেদের প্রমোশনের জন্য কোনো প্রডিউসার বা আয়োজক এগিয়ে আসছেন না। উল্টো চড়ামূল্যে বিদেশিদের গান করছেন।’ মূলত একাধিক চলচ্চিত্রের পরিচালক ও প্রযোজকেরা তাদের চলচ্চিত্রের পোস্ট প্রোডাকশনের কাজে চেন্নাই, মাদ্রাজ বা কলকাতায় গেলে সেখানেই বিভিন্ন শিল্পীর গান রেকর্ডিং করে থাকেন। ফলে এ বছর রিলিজকৃত একাধিক চলচ্চিত্রে দেশীয় শিল্পীর চেয়ে ভারতীয় শিল্পীদের প্রাধান্য বেশি প্রাওয়া যায়। এই প্রবণতা প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘এটা প্রযোজকদের আলাদা দাবি থাকে। এ ছাড়া প্রচারের একটা স্বার্থও কাজ করে। তবে চলচ্চিত্রে আমরা দেশীয় শিল্পীদের প্রাধান্যই বেশি দিয়ে থাকি। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ব্যতিক্রম ঘটে চমকের স্বার্থে।’ তবে এর একটি কারণ হিসেবে অনেকেই উঠতি কম্পোজার ও শিল্পীদের প্লে-ব্যাকে চড়ামূল্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। অনেক নির্মাতার মতে, দেশি কম্পোজাররা যখন প্রতিটি গানে ১ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি চেয়ে থাকেন, তখন বাধ্য হয়েই সেই বাজেটে তারা বাইরের শিল্পীর গান করে থাকেন।