সোনা মসজিদে আধুনিক পর্যটন মোটেল নির্মাণ
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের সোনা মসজিদে আধুনিক সুুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন পর্যটন মোটেলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল ১৫ জানুয়ারি এই মোটেলের উদ্বোধন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ৩ তলাবিশিষ্ট এই মোটেলে রয়েছে ভিআইপি রুম ১৮টি, সাধারণ রুম ১২টি, ইকোনমি রুম ও সাধারণের জন্য ডরমেটরি কক্ষ ১২টি, অভ্যর্থনা কক্ষ ১টি, ক্যান্টিন ১টি এবং ১টি সাব-স্টেশন। এছাড়া রয়েছে অফিস ও গাড়ি পার্কিং এরিয়া। প্রায় ১ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে এই মোটেলটি। এই মোটেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। মোটেলে একটি ফুলের বাগানও রয়েছে।
প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে বিপুল সম্ভবনা থাকার পরও পর্যটনের ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গৌড়ের পিরোজপুর মৌজায় এক একর জমি পর্যটন কর্পোরেশনের নামে অধিগ্রহণ করে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে উত্তরাঞ্চলের সোনা মসজিদে এই পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য সরকার প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।
গৌড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক তহখানা, কামেল পীর হজরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র.)-এর মাজার, ছোট সোনা মসজিদ, শাহ সুজার প্রাসাদ, দারাসবাড়ির মসজিদ, মাদ্রাসা, কোতোয়ালদীঘি, টাকশালদীঘি, দখলদরজা, চামাকাঠি মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, খঞ্জনদীঘির মসজিদসহ অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাজার। এছাড়া রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং মেজর নাজমুল হকের মাজার, গণকবর এবং রয়েছে বিশাল এক দীঘি যার নাম বালিয়াদীঘি।
সোনা মসজিদে রয়েছে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর, কাস্টমস ইমিগ্রেশন অফিস। এই বন্দর দিয়ে বহুলোক পাসপোর্টে ভারতে যাতায়াত করে। আমদানি-রপ্তানিকারকরা এই বন্দর দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেন। গৌড় সোনা মসজিদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও তাদের থাকার সুব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন মোটেলটি নির্মাণ করার ফলে ভিআইপিসহ সকল পর্যটকের সুবিধা হলো।