আগৈলঝাড়ায় সেচ সংকটে বোরো চাষ ব্যাহত
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৩
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ ৮৬ কি.মি খাল খননের অভাবে সেচ সংকটে পড়েছে কৃষকরা। এ কারণে চলতি বছরের ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের কৃষকের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
বরিশাল জেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ সাংবাদিকদের জানান, কৃষিনির্ভর আগৈলঝাড়ায় গত দুই যুগেও মরা খালগুলো পুনঃখননের উল্লেখযোগ্য কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তাই কৃষকরা বছরের পর বছর সেচ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সেচের জন্য উপজেলার অভ্যন্তরীণ ২৭টি প্রকল্প আওতায় ৮৬ কি.মি খালের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে কৃষকদের পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পগুলো গত দু’বছর আগে দাখিল করলেও তা এখনো লালফিতায়ই বন্দী রয়েছে। দাখিলকৃত প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নে মোট ২২ কি.মি. খালের মধ্যে রয়েছে বাশাইল গ্রামের মতির স-মিল থেকে ছোট বাশাইল-গোয়াইল-ছোট ডুমুরিয়া পর্যন্ত ৮ কি.মি, একই এলাকায় কামাল সরদারের বাড়ি থেকে হায়াতুল্ল¬াহর বাড়ি পর্যন্ত দেড় কি.মি, দক্ষিণ বাহাদুরপুর থেকে মাগুরা ছাদেক বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত ৩ কি.মি, বাহাদুরপুর রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয় থেকে বটু বকুলার বাড়ি পর্যন্ত দেড় কি.মি, রামানন্দেরআঁক স্কুল থেকে ক্লাব বাড়ি পর্যন্ত আড়াই কি.মি, বাশাইল খন্দকার বাড়ির ব্রিজ থেকে চেঙ্গুটিয়া ঢালীবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত আড়াই কি.মি, রাজিহার জোড়াব্রিজ থেকে কুমারভাঙ্গা পর্যন্ত ৩ কি.মিসহ ২২ কি.মি খাল খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। বাকাল ইউনিয়নে শুকিয়ে যাওয়া খালের পরিমাণ ১৭ কি.মি। এরমধ্যে ১ নং ব্রিজ থেকে আদাবাড়ি পর্যন্ত দেড় কি.মি, কোদালধোয়া থেকে বড়মাগরা পর্যন্ত ২ কি.মি, কোদালধোয়া থেকে ফেনাবাড়ি পর্যন্ত ২ কি.মি, কোদালধোয়া শিমুলবাড়ি পর্যন্ত দেড় কি.মি, বাকাল ১ নং ব্রিজ থেকে কোদালধোয়া পর্যন্ত ৪ কি.মি., বাকালহাট থেকে আমবাড়ি হয়ে বাটরা বাজার পর্যন্ত ৩ কি.মি ও রাজিহার বাজার থেকে বাকালহাট পর্যন্ত ৪ কি.মিসহ ১৭ কি.মি খাল পুনঃখননের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গৈলা ইউনিয়নে ফুল্ল¬শ্রী ডাক্তারখানা থেকে উত্তর শিহিপাশা হয়ে কুমারডোবা পর্যন্ত সাড়ে তিন কি.মি, নিমতলা থেকে টেমার হয়ে সেরাল হাইস্কুল পর্যন্ত ৩ কি.মি, গৈলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লাল্টুর বাড়ির ব্রিজ থেকে গুপ্তেরহাট পর্যন্ত আড়াই কি.মি, রথখোলা থেকে ভদ্রপাড়া পর্যন্ত ৩ কি.মি, রশিদ ফকিরের ব্রিজ থেকে রামেরবাজার পর্যন্ত ২ কি.মি, পতিহার জুরাণ সরকারের বাড়ি থেকে কারিকর পাড়া পর্যন্ত ১ কি.মি, কালুরপাড় থেকে রামেরবাজার পর্যন্ত ২ কি.মি ও কালুপাড়া স্লুইসগেট থেকে আস্কর বল্ল¬ভ বাড়ি পর্যন্ত ৫ কি.মিসহ মোট ২২ কি.মি। রত্নপুর ইউনিয়নের মিশ্রিপাড়া বাজার থেকে চাউকাঠী পর্যন্ত ৩ কি.মি, মোহনকাঠী কলেজ থেকে থানেশ্বরকাঠী পর্যন্ত ৪ কি.মি, বরিয়ালী ওয়াপদা থেকে মোল্লাপাড়া-ত্রিমুখী-বারপাইকা-দুশমী পর্যন্ত ৭ কি.মি, কাঠিরা-দুশুমী থেকে দক্ষিণে উজিরপুর সীমানা পর্যন্ত ৬ কি.মি, ছয়গ্রাম তালুকদার বাড়ি থেকে ডাক্তারবাড়ি পর্যন্ত ২ কি.মি ও ঐচারমাঠ থেকে কাঠিরা পর্যন্ত ৩ কি.মিসহ ২৫ কি.মি খালে পানি সরবরাহ না থাকায় তা জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখনন দরকার। এই খালগুলোতে অতীতের মত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভবিষ্যতে পতিত জমির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উত্পাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে বলে কৃষিবিদরা মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে বিএডিসি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, দাখিলকৃত প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয়েই জমা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি বা সহসাই হবে এমন কোন সংবাদ তার কাছে নেই।