জুনে দায়িত্ব নেবেন ক্রুইফ

বাংলাদেশ ফুটবলের দলের নতুন কোচ হলেন নেদারল্যান্ডের লোডভিক ডি ক্রুইফ। অপরদিকে বাফুফে একাডেমির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তারই স্বদেশী রেনে কোস্টার। ব্যাপক দর কষাকষির পর ডাচ কোচদ্বয়ের সাথে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সমঝোতামূলক চুক্তি হয়েছে। তারা জুনে ঢাকায় এসে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের ফুটবলের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাহউদ্দিন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ চুক্তির কথা প্রকাশ করেন। তিনি অবশ্য দুই কোচকে কত অর্থ দিতে হচ্ছে তা জানাননি। তবে জানা গেছে এদেরকে দুই বছরে প্রায় আট কোটি টাকা দিতে হবে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে তাদের। উভয় কোচই নিজের দেশে পৃথক দু’টি ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ আছেন। তাই তাদের চাকরির মেয়াদ শেষ করে এসে দায়িত্ব নিতে হবে। নইলে এর আগে কথা ছিল মার্চে চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য কাজ করবেন ক্রুইফ। বাফুফে সভাপতি অবশ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চে তিন সপ্তাহের জন্য কোচ দু’জনকে ঢাকায় আসতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তারা কথা না দিলেও জানিয়েছেন নিজ নিজ ক্লাবের সাথে আলোচনা করে আসার চেষ্টা করবেন। এদিকে গতকাল পর্যন্তও ডাচ কোচদের সাথে দর কষাকষি চলেছে। চুক্তি হওয়ার কথা ছিল বেলা একটায়। কিন্তু সেটি হয়েছে বিকাল সাড়ে চারটায়। বাফুফের সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়াল সময়মতো আসেননি বলেই এমনটা হয়েছে বলে জানানো হয়। তাবিথকেই কোচের চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন। কিন্তু তিনি বাফুফে ভবনে এসেছেন অনেক দেরিতে। তাবিথও স্বীকার করেছেন তার জন্য দেরি হয়েছে। তবে ভেতরের কথা হচ্ছে সকাল ১১ টা থেকেই কোচরা তাদের বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ডাচ এজেন্টের মাধ্যমে বাফুফের কর্মকর্তাদের সাথে দেনদরবার করছিলেন। আলোচনার অংশ নিয়ে সেখান থেকে টেলিফোনে হল্যান্ডে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিচ্ছিলেন ডাচ কোচ এবং এজেন্ট। সব কিছু আলোচনার পর কোচরা ঢাকায় ব্যবহারের জন্য এমন এক মডেলের গাড়ি চেয়েছেন যা কিনতে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। একটা সময় মনে হয়েছিল কোচরা থাকছেন না। চুক্তি হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত জানানো হলো কোচ আসছেন। বাফুফে সভাপতি, ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, সদস্য আনোয়ারুল হক হেলাল, সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও আরিফ খান জয়, ডাচ কোচদ্বয় এবং তাদের এজেন্ট সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন। দুই পক্ষই বলেছে ‘সুন্দরভাবে’ এক মত হওয়ার কথা জানান। তবে সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘সমঝোতামূলক চুক্তি হয়েছে। দুই পক্ষের আইনজীবীরা কাগজপত্রে কোনো দুর্বলতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখলেই স্বাক্ষর হবে।’ কোচ ক্রুইফ বলেন, ‘আমি খুশি বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতে পেরে এবং এদেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে। আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক আইডিয়া রয়েছে। ডাচ ফুটবলে আমাদের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে তা দিয়ে এখানে ফুটবল উন্নয়নের জন্য কাজ করব। ডাচ ফুটবলের কিছু ধাচ আছে, সেটা প্রয়োগ করতে চাই আমরা। আশা করি এদেশের ফুটবলকে উপরে নিয়ে যেতে পারব। এখানকার অবকাঠামোগত সুবিধা আমাদের জানা আছে। যা কিছু আছে তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটা অবস্থানে পৌঁছাতে চাই। এটা আমাদের জন্যও একটা চ্যালেঞ্জ।’ রেনে কোস্টার ফুটবল একাডেমির দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু একাডেমিটি এখনও প্রস্তুত না। সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন জুনের আগেই এটি উন্নত করা করা হবে।