প্রকৃত খুনিদের বাঁচানোর
চেষ্টা চলছে :এরশাদ
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। ৯ ডিসেম্বর দিনটিকে ‘বিশ্বজিত্ হত্যা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে তা পালনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার পুরান ঢাকায় বিশ্বজিত্ দাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন নিরীহ কর্মজীবী বিশ্বজিত্ দাস। পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে যে বিপণীকেন্দ্রে বিশ্বজিত্ হামলার শিকার হন, গতকাল সেখানে গিয়ে ফুল দিয়ে বিশ্বজিতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এরশাদ।
এরশাদ বলেন, নূর হোসেনকে কারা হত্যা করেছে জানি না। কিন্তু তার নামে চত্ব্বর করা হয়েছে। আমি আহ্বান জানাই-যেখানে বিশ্বজিেক কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেখানে বিশ্বজিতের নামে চত্ব্বর করা হোক। বিশ্বজি?ত্ যেন মানুষের মাঝে সারাজীবন অমর হয়ে থাকতে পারে এজন্য এটা করা উচিত।
তিনি বলেন, প্রতিদিন দেশে হত্যা, ধর্ষণ হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বজিত্ হত্যা সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও নির্মম। সকলে মিলে এ নিরীহ ছেলেটিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে-কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। যে কারণে ৯ ডিসেম্বর জাতির জন্য কলঙ্ক দিবস হিসাবে পালন করা উচিত। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ ও বিশ্ববাসী দেখেছে কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এখন বলা হচ্ছে, তার গায়ে কোপের কোনো চিহ্ন নেই। তদন্তকে কীভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে এটিই তার প্রমাণ।এর আগে জাপা চেয়ারম্যান পুরান ঢাকার হূষিকেশ দাস লেনের বাসায় বিশ্বজিতের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানান এবং এক লাখ টাকা দেন। জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, জাপা চেয়ারম্যানের মুখপাত্র কাজী ফিরোজ রশীদ, চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আমাদের রংপুর প্রতিনিধি জানান, জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আমরা একটা অবশ্যম্ভাবী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবাই দেখছি আমাদের সামনে সংঘাত। আমরা সবাই চিন্তিত ও সংকিত। আদৌ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কিনা এবং হলেও কিভাবে হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। অন্য কোন পন্থায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলেও তিনি তাতে রাজি নন। এদিকে শেখ হাসিনাও তার সিদ্ধান্তে অটল। কাজেই আমি চরম শংকিত। শনিবার ৫ দিনের সফরে রংপুরে এসে তার পল্লীনিবাস বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ মহাজোট সরকারের ৪ বছরের মূল্যায়ন সম্পর্কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি শুধু সাফল্যের কথা বলেছেন। ব্যর্থতার কথা কিছুই বলেননি। পদ্মা সেতু, ডেসটিনি, হলমার্ক, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এসবের কিছুই তিনি বলেননি। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এ) ৩’শ আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে অংশ নিবে। আমি সেই সিদ্ধান্তে অটল আছি। শেষ জীবনে আমি রংপুরে ৩টি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এর মধ্যে রংপুর-৩ (সদর), রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) ও অন্য আরেকটি আসন সেটা পীরগাছাও হতে পারে আবার পীরগঞ্জও হতে পারে। রংপুরের হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধার করবো ইনশাআল্লাহ। প্রতিবার জাতীয় পার্টি (এ) কারো না কারো সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছে। এবারই প্রথম জাতীয় পার্টি (এ) এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।