পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রামে
পরিবহন ভাড়া বাড়ছে
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
চট্টগ্রাম মহানগরীতে আজ রবিবার থেকে গণপরিবহনে নতুন ভাড়া কার্যকর হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলেও কোন রকম পূর্বঘোষণা না দিয়েই হঠাত্ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। ফলে বাড়তি ভাড়া নিয়ে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলার আশংকা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গাড়ি রিকুইজেশনের অভিযোগ করেছে জেলার বাস মালিক সমিতি। যানবাহন নিয়ে প্রশাসনের এই হয়রানি বন্ধ না হলে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারী দিয়েছে তারা।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু সরকারকে উপেক্ষা করেই আজ থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হচ্ছে বন্দরনগরীতে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বাস মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আলম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আমরা আজ রবিবার থেকে ২০১১ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই অনুযায়ী প্রথম দুই কিলোমিটার ভাড়া ৫ টাকা, পরবর্তীতে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা হারে কার্যকর হবে। তেলের দাম বাড়লেও নতুনভাবে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে গণপরিবহনে অস্থিরতার আশংকা করা হচ্ছে। প্রতিবারই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করতে গিয়ে গণপরিবহনে ব্যাপক ভাংচুরসহ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। তার উপর এবার পূর্বে কোন ঘোষণা ছাড়াই নতুন ভাড়া কার্যকর করতে যাচ্ছে বাস মালিক সমিতি। এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নতুন বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আমাদের সাথে তারা কোন আলোচনা করেননি। এ ব্যাপারে সরকার কোন প্রজ্ঞাপনও জারি করেনি। ভাড়া বৃদ্ধির আগে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হয়রানি বন্ধ না হলে
ধর্মঘটের হুমকি
চট্টগ্রাম বাস মালিক সমিতির নেতারা যানবাহন নিয়ে প্রশাসনের নানামুখী হয়রানির অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, হরতাল আসলে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন ধরনের ছোট গাড়ি রিকুইজেশন করা হয়। অথচ প্রাইভেট গাড়ি রিকুইজেশন নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রিকুইজেশন করা গাড়ি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভাংচুর হলে কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না। আর রিকুইজেশনের কোন টাকাও দেয়া হয় না। অথচ রিকুইজেশন করা হলে ২৪ ঘণ্টার জন্য গাড়ির বাবদ ৫০০ ও চালককে ২০০ টাকা পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইচ্ছেমতো গাড়ির রিকুইজেশন করা হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক সার্জেন্টদের চাঁদাবাজিসহ প্রশাসনের নানামুখী হয়রানিতে পরিবহন খাত বেসামাল হয়ে উঠেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে এসব হয়রানি বন্ধ করা না হলে আমরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবো।’ গাড়ি রিকুইজেশন প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘হরতাল, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে প্রাইভেট গাড়ি রিকুইজেশন করা যাবে। এটা আদালতের রায়ে উল্লেখ রয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি থানায় দৈনিক দু’টি গাড়ি রিকুইজেশনের নিয়ম থাকলেও ৮ থেকে ১০টি গাড়ি রিকুইজেশন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিএমপি সহকারি কমিশনার (ট্রাফিক) ইউকে সিং ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম শহর এলাকায় কোন ধরনের গাড়ি রিকুইজেশন করা হয় না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে জেলার জন্য শহর থেকে গাড়ি রিকুইজেশন করা হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।