মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা নষ্ট না করার আহ্বান

মালয়েশিয়ায় নতুন করে জনশক্তি রপ্তানির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না। শ্রমিকরা কম পয়সায় যাওয়ার সুযোগ পেলে তাদের সেই সুযোগ নিতে দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির খেসারত এই সম্ভাবনার উপর যাতে না পড়ে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক পরামর্শ সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বাংলাদেশের জন্য আবার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। এর ফলে আবার ৪ থেকে ৫ লাখ লোকের দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারিভাবে লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নাখোশ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা। তারা বায়রার মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানির দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে সরকারের সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছে তাদের। বক্তারা বলেন, সরকারকে শিক্ষা দিতে গিয়ে যাতে আখেরে এই শ্রম বাজার না হারিয়ে ফেলি সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। বায়রার উদ্দেশে কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জাম খন্দকার বলেন, যে সব লোক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারিত হয় তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নেন না। কিন্তু সরকার ব্যবস্থা নিতে গেলে আপনারা সবাই একত্রিত হন। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে এ পরামর্শ সভা যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম এন্ড কম্যুনিকেশন (বিসিডিজেসি), দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও সাপ্তাহিক কাগজ। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বেশিরভাগ আলোচক মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে লোক পাঠানোর পক্ষে বিপক্ষে তাদের যুক্তি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সেই সাথে বক্তারা শ্রম শক্তি রপ্তানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এসব সমাধানে দক্ষতা বৃদ্ধি, বিমান বন্দর, দূতাবাসসহ প্রয়োজনীয় জায়গায় প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান দান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা দূর করা, প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ আরো বেশি পরিমাণে বিনিয়োগে আনা, বায়রার সাথে সরকারের দূরত্ব কমিয়ে আনার উপর গুরুত্ব দেন। সেই সাথে বক্তারা জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যবসায়ীর ভূমিকার স্থলে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান। সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে আবুল বারকাত বলেন, সব কাজ বেসরকারি খাত করতে পারে না। রাষ্ট্র কোন দিন ব্যবসায়ে যেতে পারবে না এটাও ঠিক নয়। সবকিছু আবেগ দিয়ে চিন্তা করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে প্রবাসী আয় ১ হাজার ৪২০ কোটি ডলার হলেও এটি ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কম হবে না। এছাড়া প্রবাসীদের অর্থে পদ্মা সেতু করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। আলোচনায় অংশ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বায়রাকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে বসবেন। দেশের জন্য যা ভালো সরকার সেটা করবে। একই সাথে বায়রাকে বিদেশগামী মানুষের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অমানবিক তাদের ব্যবসা বেশিদিন টিকতে পারে না। বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চাই। সরকারকে সহায়তা করতে চাই। আসিফ নজরুল অভিযোগ করে বলেন, বিদেশের দূতাবাসগুলো ঠিকমত কাজ করে না। তারা মন্ত্রী ও দুই প্রধান দলের শীর্ষ নেতাদের খাতিরে আর নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত থাকেন। এসব দূতাবাস কী ভূমিকা পালন করে তার নিরীক্ষা হওয়া দরকার।