সাবেক সিইসি এমএ সাঈদের ইন্তেকাল

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএ সাঈদ গতকাল শনিবার সকাল ৬-৪৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে... রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। এমএ সাঈদ ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আবদুল হাকিম মিয়া ও মাতা মরহুম আকলিমা খাতুন। বড় ভাই জিএসবির মহাপরিচালক মরহুম মহম্মদ আবু বকরসহ ৮ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শামীমা সাঈদ এবং কন্যা বীণা সাঈদ ও পুত্র ববি সাঈদসহ আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বেলা ১২টায় বাসায় প্রথম জানাজা শেষে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে লাশ রাখা হয়েছে। একমাত্র ছেলে ববি সাঈদ আমেরিকা থেকে দেশে ফিরলে আগামী বুধবার বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এম এ সাঈদ গোপালগঞ্জে স্কুল জীবনশেষে পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগদান করেন। কর্মজীবনে কিশোরগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক থেকে শুরু করে পরবর্তীতে বিটিভির মহাপরিচালকসহ মংস্য ও প্রাণিসম্পদ, শিক্ষা, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরিচালক ও এবং এসএসির চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদের শেষ দিকে ২০০০ সালের মে মাসে নিয়োগ পেয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম এ সাঈদ। তার দায়িত্বকালে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার শোক সাবেক সিইসি এমএ সাঈদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল এক শোকবার্তায় বেগম জিয়া বলেন, মরহুম এমএ সাঈদ একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই ছিলেন না, তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ছিল নিবেদিত। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বেগম জিয়া এমএ সাঈদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। অনরূপ শোকবার্তায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম এম এ সাঈদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।