হরমোন প্রয়োগে পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে আম গাছ

ভারত থেকে চোরাই পথে আসা ‘কার্লটার’ নামক হরমোন প্রয়োগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাতা ও আগা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে শত শত আম গাছ। এতে আগামী মৌসুমে সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকায় বাগান মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ‘ব্যাইড়াল’ নামে পরিচিত অর্থলোভী আম ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় গাছের গোড়ায় ওই হরমোন প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমের রাজধানী হিসাবে খ্যাত এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাগান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘ব্যাইড়াল’রা বাগান মালিকদের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য আম বাগান লিজ নিয়ে থাকেন। প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী আম বাগানে এক বছর ফল ধরলে পরের বছর ধরে না। আর এ জন্যই আম বাগানের ক্ষেত্রে ‘অফ ইয়ার’ ও ‘অন ইয়ার’ কথাটি চালু রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ‘ব্যাইড়াল’রা প্রতি বছর ফল ধরানোর জন্য ভারত থেকে চোরাইপথে আসা ‘কার্লটার’ হরমোন আম গাছের গোঁড়ায় প্রয়োগ করছেন। এতে প্রতি বছর আম ধরলেও গাছে নতুন পাতা গজানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে ২/৩ বছর টানা হরমোন ব্যবহার করার ফলে পাতা ও আগা শুকিয়ে এক বছরের মধ্যে মরে যাচ্ছে গাছ। উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে অসংখ্য মরা আম গাছ দেখা গেছে। উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বাবলাবোনা গ্রামের বাগানমালিক ডা. বারি ইত্তেফাককে জানান, চার বছর আগে আর্থিক সংকটে পড়ে একই ইউপির ফারুকের কাছে রাধানগর মৌজার ২ বিঘা আম বাগান ৪ বছরের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করি। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ফারুক আম গাছের গোঁড়ায় হরমোন ব্যবহার করেন। ফলে অধিক ফল ধরলেও ৩ বছরের মাথায় গাছের আগা ও পাতা শুকাতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় কৃষি অফিসারকে জানালে তিনি বলেন, ভারতীয় ‘কার্লটার’ হরমোন ব্যবহার করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ নিয়ে ফারুকের বিরুদ্ধে গ্রাম্য শালিসও হয় বলে বারি জানান। তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন ফারুক। জানা গেছে, একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের হাজারী, খাসের হাট কবিরাজ টোলার আলতাফ, চাঁন শিকারীর ওবাইদুল, পারচৌকার জাহাঙ্গীর, দাদনচকের মনিরুল ইসলামসহ আরো অনেক বাগান মালিক। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা. মাহমুদুল ফারুক বলেন, ‘কার্লটার’ হরমোন ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আমরা জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনাও হয়েছে। তবে ‘কার্লটার’ হরমোন অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা হলে জৈব সার ও গোবর প্রয়োগের মাধ্যমে এর প্রভাব থেকে গাছকে রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।