সিডিএ’র রিং রোড প্রকল্প থেকে অর্থ ফেরত নেয়ার হুমকি জাইকার
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
জাইকা চট্টগ্রামের বহু প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আউটার রিং রোড প্রকল্প থেকে তাদের অর্থায়ন ফেরত নেয়ার হুমকি দিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে চার বছর পূর্বে নগরীর পতেঙ্গা বেড়ীবাঁধ বরাবর বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের রিং রোড প্রকল্পের সমীক্ষা ও প্রাথমিক প্রকল্প মূল্যায়ন দলিল (ডিপিপি) অনুমোদন হয়। কিন্তু এরপর থেকে প্রকল্প অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে গড়িমসির ফলে প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে পড়ে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্ল্যানিং বিভাগ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ফাইল চালাচালির একপর্যায়ে প্রকল্পের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাছাড়া প্ল্যানিং বিভাগ থেকে জাইকাকে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণেরও টাকা প্রদানের প্রস্তাব করে। কিন্তু ডোনার প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় বহন করে থাকে। যা ডোনার অর্গানাইজেশনসমূহের গাইড লাইনেও উল্লেখ রয়েছে। নতুন করে প্ল্যানিং বিভাগের এ ধরনের চিঠির প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি ঝুলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
এদিকে জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তয়ম-এর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সাক্ষাত্ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিনিধি দল জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার রিং রোড প্রকল্পে নতুন ডিপিপি অনুমোদন না করলে এবং দ্রুত অর্থ ছাড় না করলে জাইকা এ প্রকল্পের টাকা ফেরত নেবে। তাছাড়া প্রকল্পের জন্য ব্লক ফান্ড দেয়া না হলে প্রকল্পের ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। বিশেষ করে জমির অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
জানা যায়, ২০০৬ সালে রিং রোড প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে সমীক্ষার কাজ শেষ হয়। ২০০৯ সালে প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু অনেক গড়িমসির পর ২০১১ সালে ডিপিপি অনুমোদন দেয়া হয়। সে সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের জন্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ধরা হয়। বাকি টাকা জাইকা প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করবে বলে নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে প্ল্যানিং কমিশন ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে কাটছাঁট করে ১৪০ কোটি টাকা অনুমোদন করে। কিন্তু এই অনুমোদিত ১৪০ কোটি টাকার মধ্যে এ বছর বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয় মাত্র ১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় ৮৫৬ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৭২১ কোটিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে জাইকার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। জানা যায়, সমপ্রতি নতুন ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে প্রকল্পটির কাজ চালু রাখার জন্য পূর্বের অনুমোদিত ডিপিপি’র টাকা চেয়ে সিডিএ থেকে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানিয়েছেন, প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পূর্বের অনুমোদিত ডিপিপি’র টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জাইকার প্রতিনিধি দল প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং টাকা ফেরত নেয়ারও একপ্রকার হুমকি দিয়েছে।