দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের উত্পত্তি
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৪
নেতৃত্ব সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান বিওয়াইএলসি তে প্রশিক্ষণ নেয়ার পরই ছয় বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করে বিসিআই (বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইনিশিয়েটিভ)। সংগঠনটির উত্পত্তি ঘটেছিল মূলত বিবিএলটির একটি মাঠ পর্যায়ের কাজ থেকে। যেখানে কাজ করে সংগঠকদের মাঝে ছিন্নমূল নারীদের সম্পর্কে ভিন্ন অভিজ্ঞতা জন্ম নেয়। তারা দেখেন অনেক ছিন্নমূল তরুণীই মাঝ বয়সে এসে বিপথগামী হচ্ছে। আর এর প্রধান কারণ অসচেতনতা ও অর্থ সমস্যা। ঐ তরুণীদের রক্ষার জন্য তারা তরুণীদের ব্লকের প্রশিক্ষণ দেন এবং প্রাথমিক দক্ষতা বিষয়ক ধারণা দেন। যাতে করে তারা অর্থ সংকট ও বিপথগামী না হয়। বিবিএলটির প্রশিক্ষণ শেষে ঐ তরুণী আর সমাজের অন্যান্য অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের কথা ভেবেই জন্ম নেয় বি সি আই। তারা নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে কাজ করেন। সংগঠনের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের মানুষগুলোকে নিজেদের স্থান থেকে সামর্থ্যানুযায়ী সেবা করা। হোক তা বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক, মানসিক বা অন্যকোন ভাবে। এই সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই তরুণী। যারা পড়াশুনার পাশাপাশি সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিষ্ঠা করে বি সি আইয়ের। এর সামাজিক কার্যক্রমগুলোর উদ্ভব ঘটে ‘উত্থান’ প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্পের অধীন গত ঈদে বি সি আই প্রায় তিনশ’ ছিন্নমূল ও দরিদ্র শিশুর মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করে। ঐ মানুষগুলোর আনন্দ মুখ আর ভালোবাসা সংগঠনের সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। গত ২৬ মার্চ তারা হাতে নেয় সমাজসেবামূলক আরেকটি কাজ। এই দিন তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষদের ওভার ব্রীজ ব্যবহারে উত্সাহিত করে। এবং অসচেতন মানুষদের এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে। এই বছরকে সামনে রেখেও সংগঠনটি হাতে নিয়েছে অনেকগুলো সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ। বিসিআই সম্পর্কে জানাচ্ছে তিন তরুণী প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক।
তাসনিম যারা
গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যালের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে পড়াশুনার বাইরে সময় দেয়াটা একটু কঠিনই বটে। কিন্তু তার মতে, আমার লক্ষ্য যেমন ডাক্তার হওয়া তেমনি আরেকটি লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। সমাজের মানুষগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এই থেকেই জড়িত হই বি সি আই প্রতিষ্ঠার সাথে। বি সি আইয়ের সুবাদে আমার একটি বস্তিতে কাজ করার সুযোগ হয়। তারা আমার এতো আপন হয়ে যায় যে, তাদের যে কোন বিষয়ে তারা আমার সাথে অংশ নিত। আর আমিও তাদের আপন ভাবি। গত ঈদে তাদের সবাইকে বস্ত্র দিয়েছি নিজের খরচে। সমাজ উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড ছাড়াও খেলাধুলা, বিতর্ক, আবৃত্তি, প্রবন্ধ লেখার প্রতিও রয়েছে তার যথেষ্ট আগ্রহ। তার ইচ্ছা সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
মাশরুবা তাসনিম
তহবিল ও গণযোগাযোগ বিভাগ
আহসান উল্লাহ ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুবা। বি ওয়াই এলসির বি বি এলটি প্রোগ্রামে মনোনীত হয়ে লিডারশীপ গ্রাজুয়েশান লাভ করে ২০১২ সালে লিডারশীপ সম্মেলনের একজন অর্গানাইজার হিসেবে কাজ করে। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের অধীন বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিক্যাল এসোসিয়েশানের একজন সদস্য। মাশরুবা চায় দেশের অবহেলিত এবং অসচেতন মানুষ বিশেষকরে নারী ও শিশুদের জন্য কাজ করে যেতে। আর বি সি আইয়ের সাথে এজন্যই কাজ করা। তার মতে, বিসিআই তরুণদের সংগঠন, আর এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা মানুষের জন্য ভাবি। তাদের সুখে দুঃখে অংশ নেই।
তাসমিয়াহ আলম
সৃজনশীল বিভাগ
তাসমিয়াহ শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সংগঠনের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ইত্যাদি তার দায়িত্বে তৈরি হয়। তার মতে, যখন এ ধরনের কোন দায়িত্ব হাতে নেই তখন নিজের মাঝে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। মনে হয়, ক্ষুদ্র হলেও মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি। আর আমার কাজগুলো মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিসিআইয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করে। এটা অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের বিষয় যে, আমি বিসিআইয়ের সাথে কাজ করছি সমাজকে ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে এবং সমাজের বঞ্চিত মানুষ বিশেষ করে তরুণ, নারী ও শিশুদের এগিয়ে নিতে।