ওরা বিজয়ী

জয়িতা শব্দের অর্থ বিজয়ী। সংগঠনের নামের মান রেখেছেন ‘জয়িতা’র সদস্যরা। জয়িতা আজ সারা দেশে পরিচিত একটি নাম। তাদের স্লোগান ‘এক ছাদের নিচে বাংলাদেশ’। একেবারে উপরের স্তর থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত নারীদের দ্বারা পরিচালিত এই সংগঠনটি রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় অবস্থিত। ২০১১ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া জয়িতার সাথে বর্তমানে প্রায় ১৬০০ সংগঠন যুক্ত আছে আর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় ১৮০টি সংগঠনের মিলিতভাবে রয়েছে ১৩৯টি স্টল। দেশের প্রতিটি জেলায় চলছে এই সংগঠনটির কার্যক্রম। গ্রামের নারীরা মূলত জয়িতার সকল পণ্য উত্পাদন করেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে বাঁচতে এবং নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের হাত ধরে জয়িতা তার অগ্রযাত্রা শুরু করে। নারী-শিশুদের পোশাক, ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিসপত্র, হস্তশিল্পজাত পণ্য থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য পাওয়া যায় জয়িতার এই স্টলগুলোতে। জয়িতার স্টলগুলোর মালিকদের তথা নারী উদ্যোক্তাদের সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় চারটি স্টলে নিজেদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন জয়িতার এই নারী উদ্যোক্তারা। একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো জয়িতার উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে রান্নার জন্য যারা কাজ করেন তারা সকলেই নারী। ঢাকা ইউমেন চেম্বার অব কমার্সের স্টলের ৯ নম্বর প্যাভেলিয়নে গিয়ে কথা হলো অংশগ্রহণকারী জয়িতার নারী উদ্যোক্তাদের সাথে। এবারের বাণিজ্য মেলাতেই তারা প্রথমবারের মতো পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। তাই স্বভাবতই আনন্দিত এবং উত্তেজিত তারা। জয়িতার এক উদ্যোক্তা জোনাকী বললেন, মেলা এখনো সেভাবে জমে ওঠেনি তাই আমাদের বেচা-কেনাও আশানুরূপভাবে হচ্ছে না এখনো পর্যন্ত। দুই-একদিনের মধ্যেই শুরু হবে আশা করি। প্রথমবারের মতো মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তবে মেলায় এসে জোনাকীসহ অন্য নারী উদ্যোক্তারা একটি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা যে সমস্যাটির কথা বললেন তা হলো, এখানে সকাল ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে মালামাল আনতে হয় এবং রাত এগারটা থেকে বারোটার মধ্যে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হয়। জোনাকীর ভাষায়, নারী হওয়ার কারণে আমাদের জন্য এটা একটি সমস্যা। আমরা চাই আমাদের জন্য এই দিকটি একটু বিবেচনা করা হোক। অন্তত আমাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হোক যাতে মালামাল আনা-নেয়া করতে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। এবারের বাণিজ্য মেলায় জয়িতার পক্ষে জোনাকীসহ মোট দশজন নারী উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। তারা হলেন- ফারজানা ফাইজা মিথিলা, রুবি হক, হাসিনা মমতাজ, বিবি ফাতেমা বেনজীর প্রমুখ। জয়িতার স্টল থেকে চলে আসার জন্য গোছগাছ করছি এমন সময় মেলায় ঘুরতে আসা এক নারী হঠাত্ জয়িতার স্টলের সামনে এসে বলতে লাগলেন, এই তো জয়িতা! কতোদিন ধরে ভাবছি রাপা প্লাজায় জয়িতার স্টলগুলোতে যাবো। কিন্তু আর হয়ে ওঠেনি। আজ পেলাম। কথা বললাম তার সাথে। শামীমা বুলবুল নামের এই গৃহিণী বললেন, আমার পরিচিত অনেকের কাছ থেকে জয়িতার নাম শুনেছি এবং আজ পর্যন্ত জয়িতার অনেক পণ্য উপহার হিসেবে পেয়েছি। কিন্তু যাবো যাবো করেও আর যাওয়া হয়নি। তিনি চলে যাওয়ার সময় জয়িতার স্টল থেকে কিছু পণ্যও কিনে নিয়ে গেলেন। জয়িতা কীভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে তা জানতে চাইলে উদ্যোক্তা মিথিলা জানান, আমাদের এখানে যে সব পণ্য বিক্রি করা হয় তার সবই গ্রামের নারীদের হাতে প্রস্তুত। আর তাই তাদের লাভ এবং ক্রেতার কথা চিন্তা করেই দাম নির্ধারণ করি। দাম মোটামুটি সস্তা এবং আমাদের জিনিসপত্রের মান ভালো বলেই দিন দিন আমাদের ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। জয়িতার উদ্যোক্তাদের তালিকায় তরুণী থেকে শুরু করে প্রৌঢ়া সকলেই আছেন। তাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি, স্বাবলম্বী হবে নারী সমাজ, গ্রামের নারীরা খুঁজে পাবেন অন্ন সংস্থানের নতুন ঠিকানা এই প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।