ভারতের নারীদের নিয়ে
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৯
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। সেদেশের অর্থনীতি এগিয়ে চললেও নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি এতোটুকু। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি বাসে এক মেডিক্যাল ছাত্রীকে গণধর্ষণ করার ঘটনা এবং ঐ ছাত্রীর অকাল করুণ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয় সারাদেশের সর্বস্তরের জনতার মাঝে। সম্প্রতি বিবিসি ভারতের নারীদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ধর্ষণ নয় প্রতিবছর দশ হাজারের অধিক তরুণী-কিশোরী-নারী নিখোঁজ হয়। দেশটিতে যাদের মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করে দেয়া হয় কিংবা যৌন ব্যবসার মতো কাজে লাগানো হয় জোরপূর্বক। আবার অনেককে দেশের মধ্যেই বউ হিসেবে কিনে নেয় অনেকে। ইউনিসেফের মতে সামাজিক এবং আর্থিক অবস্থার কারণে ভারতে যতো সংখ্যক নারী থাকার কথা তার থেকে পাঁচ কোটি নারী কম (মিসিং)! আর ভ্রূণ হত্যা কিংবা কন্যাশিশু হত্যার মাধ্যমেই তা করা হচ্ছে। ভারতের উত্তরাঞ্চলে এই প্রবণতা সব থেকে বেশি এবং সেখানে নারীদের অবস্থা করুণ। যেমন হরিয়ানায় নারীদের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অস্বাভাবিক রকম কম। রাসিকান্ত উত্তরাঞ্চলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তরুণরা সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না। কারণ নারীদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বছরে ভারতে প্রায় ৩৫০০০ নারী হারিয়ে গিয়েছেন, এদের মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই হারানো নারীর সংখ্যা ১১০০০। আর একই বছর পুলিশের কাছে এর ৩০ শতাংশ নিখোঁজের রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আবার এমন ঘটনাও অহরহ ঘটতে দেখা যায় যে, পরিবারের আর্থিক দুর্গতির কারণে অনেক তরুণী পরিবার ছেড়ে অর্থ উপার্জনের জন্য বেরিয়ে পড়ে। এদের মধ্যে যাদের ভাগ্য খুব ভালো তারা হয়ত কিছু উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে, বাকিরা নিখোঁজ হয় কিংবা আরো করুণ অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকে। বিবিসির কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাচারকারী বলেন, আমি প্রতি বছর ১৫০ থেকে ২০০-এর মতো মেয়েকে পাচার করি। আমি নিজে মাঠে কাজ না করলেও আমার লোক রয়েছে যারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ দেয়ার কথা বলে গরিব পরিবারের মেয়েদের নিয়ে আসে। ১০০০ ডলারের বিনিময়ে আমি প্রতিটি মেয়েকে বিক্রি করি। পুলিশকে ঘুষ দিলে কোনো সমস্যাই থাকে না। বেশ কয়েকবার সমস্যায় পড়েছি কিন্তু আমি এখন এটা নিয়ে ভয় পায় না। কারণ এখন আমার হাতে অনেক টাকা আছে এবং ঘুষ দিয়ে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি। রাসিকান্ত বলেন, আসলে এদেশে পুলিশ দিয়ে এই পাচার বন্ধ করা যাবে না। সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।