বাড়িভাড়া বৃদ্ধির শেষ কোথায়?
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৪
আমি ১ বছর আগে বাড্ডা এলাকায় দোতলায় একটি ৮০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট ভাড়া নেই ১১,০০০ টাকায় (গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি বাদে)। জানতে পারলাম বাড়িওয়ালা নাকি অনেক ভালো। ২/৩ বছরের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধি করেন না। কিন্তু ভালো আর থাকলেন না। কারণ এক বছরের মাথায় বাসা ভাড়ার নোটিস হাতে ধরিয়ে দেন। বাসায় থাকতে হলে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়া উপায় নেই। অনেক দর কষাকষির পর বাড়িওয়ালা নাছোড় বান্দা ৫০০/- টাকা বৃদ্ধি করেই ছাড়লেন। আগে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার অজুহাতে বাসা ভাড়া বাড়াতেন আর এখন কোন অজুহাত ছাড়াই বাড়ি ভাড়া বাড়ান। হাতে গোনা ২/১ জন বাড়িওয়ালা ছাড়া আর সবাই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না। মনে হয় যেন দেশে কোনো সরকার নেই, সরকারের কোনো নিয়মের ধার ধারে না। সর্বত্রই অরাজকতা চলছে। যে যেভাবে পারছেন বাসা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। সরকারি নিয়মে এলাকা ভেদে ৪-৬ টাকা স্কয়ার ফুট ভাড়া থাকলেও আমি তার ডাবল ১২ টাকা স্কয়ার ফুট ধরলে দেখা যায় ৮০০X১২=৯৬০০ টাকা ভাড়া হয়। সেক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা ১২,৫০০ টাকা ভাড়া নেন। তারপরও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির শেষ নেই। তাতে ভাড়াটিয়ার আয় থাকুক আর না থাকুক সেটা বাড়িওয়ালার দেখার বিষয় মনে করেন না। রাজধানীতে আমাদের হাত পা বাঁধা থাকায় এ সুযোগে বাড়িওয়ালারা রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের সমস্ত আয়ের সিংহভাগ টাকা চুষে খাচ্ছে। এভাবে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ভাড়াটিয়ারা একদিন রাজধানী ছাড়তে বাধ্য হবেন। বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে অভিযোগের শেষ নেই। অতি দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে কোনো কোনো বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছেন। জ্বালানি তেলের সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার সম্পর্ক কী বোধগম্য নয়। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সে অজুহাতে বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়াবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন এই যে ঢাকার প্রশাসন জেলায় জেলায় বিকেন্দ্রীকরণ করে রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের অন্তত বাড়ি ভাড়া যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন।
মোঃ হযরত আলী,
বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ,
৮৬ বিজয়নগর, ঢাকা-১০০০