প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৮
নারী নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিকভাবে কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজনীতিকদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা। একইসাথে নারী নির্যাতন বন্ধে সামাজিক আন্দোলনকে সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেয়ারও শপথ ব্যক্ত করেছেন তারা।
নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ ও অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ ীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠান ও সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি টাঙ্গাইল, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সমাবেশে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারী-পুরুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছে। এ দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী গত ২২ বছর ধরে সরকার পরিচালনা করছেন। নানা দৃষ্টিকোণ থেকেই এ দেশ ব্যতিক্রমী। দুই নেত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ থাকলেও নারী নির্যাতন রোধে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, নারী নির্যাতন শুধু মানবতার লঙ্ঘন নয়, মানবতা বিরোধী অপরাধও। তাই এর কঠোর বিচার হতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনীতিকদের প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তবায়ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নারী নিপীড়ন, ধর্ষণের সাথে তারাই জড়িত থাকতে পারে যাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য নেই। এ নির্যাতন বন্ধে তরুণদের মানসপটে নারী জাতির প্রতি সম্মান তৈরিতে শিক্ষকদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী মালেকা বেগম বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে আমাদের রাজনীতিকরা অনেক প্রতিশ্রুতির সাথে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সে অধিকার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারীর প্রতি নির্যাতন বেড়েই চলছে। এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। রাজনীতিকরা যদি এ নির্যাতন বন্ধের প্রতিশ্রুতি না দেন এবং তা বাস্তবায়ন না করেন, তবে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীরা ভোট দেয়া বর্জন করবে। অনাস্থা জানাবে রাজনীতিকদের প্রতি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দে র আয়শা ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমেদ, কবি কাজী রোজী, রাশিদা হোসেন প্রমুখ।