নন্দিপাড়া-শেখেরটেক সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৯
নন্দীপাড়া-শেখেরটেক- রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। সবুজবাগ থানাধীন নন্দীপাড়া এলাকা এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান অবলম্বন নন্দীপাড়া-শেখেরটেক সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা নন্দীপাড়ায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে। নন্দীপাড়া থেকে শেখেরটেকের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। অথচ চলাচলের একমাত্র প্রধান রাস্তাটির সংস্কার কাজ না হওয়ায় স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার অর্ধেক ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। উপরন্তু যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলায় সিলেট, চট্টগ্রামসহ শিল্প জোনের গাড়ি এই পথ ধরে চলাচল করায় অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রতিদিনই এই পথে যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। একটি গাড়ি আসতে থাকলে আরেকটি গাড়িকে রাস্তার পাশ ঘেঁষে থামিয়ে রাখতে হয়। এতে করে এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
এই রাস্তায় নিয়মিত চলাচলকারী নাসা গ্রুপের পরিচালক কাজী আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কাঁচপুর ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকায় পৌঁছতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। আর যানজট না থাকলে শেখেরটেক ও নন্দীপাড়া হয়ে ঢাকায় পৌঁছা যায় মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটে। এই রাস্তার ডান পাশ ধরে কয়েক মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায় বনশ্রী হয়ে রামপুরা। আর বাম পাশ ধরে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায় শাজাহানপুরে। ফলে নন্দীপাড়া ও শেখেরটেক সড়কটি জনপ্রিয় হয়ে উঠায় ঘটেছে বিপত্তি। সিলেট, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জগামী অধিকাংশ যানবাহন এই পথকে সহজ পথ হিসাবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারাও এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তিনি বলেন, রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনছে। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ২০১০ সালে একবার রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছিল ইত্তেফাকে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হবার পর। বেশ কিছুদিন ভালোই কেটে যাচ্ছিলো। কিন্তু সহজ পথ হওয়ায় অন্যান্য সড়কের ভারি যানবাহন এই রাস্তায় ঢুকে পড়ায় রাস্তাটি দ্রুতই নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের কষ্ট বাড়ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নন্দীপাড়া ও শেখেরটেক রাস্তাটি মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। রাস্তার অর্ধেক সবুজবাগে বাকি অর্ধেক পড়েছে নারায়ণগঞ্জে। দুটি নির্বাচনী আসনে পড়ায় রাস্তা মেরামত বা সংস্কার নিয়ে প্রায়ই টানাহেঁচড়া হয়ে থাকে। তিনি বলেন, রাস্তাটি ৬০ ফুট প্রস্তাবিত হলেও রাস্তার অধিকাংশই দুই পাশ থেকে দোকান-পাট, বাড়িঘর তুলে দখল করা হয়েছে। পুরো রাস্তা দখলমুক্ততো হচ্ছেই না বরং ক্রমশই তা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি রাস্তাটি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করে প্রস্তাবিত ৬০ ফুট রাস্তা করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে সবুজবাগের স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, নন্দীপাড়া ও শেখেরচর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।