সেচের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার সংযোগ ব্যয় ৫ গুণ বেড়েছে
অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৯
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি আদেশের কারণে বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকেরা। সেচ মালিকেরা বলছেন, নতুন এ আদেশের কারণে সেচ পাম্পের জন্য ব্যবহূত বৈদ্যুতিক ট্রান্স-ফরমারের সংযোগ প্রদান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ওঠানো-নামানো ব্যয় আগের চেয়ে পাঁচগুণ বেড়ে গেছে। এতে করে বোরো ফসলের উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
আগে ট্রান্সফরমার ওঠানো-নামানোর জন্য ব্যয় হতো এক হাজার ২০০ টাকা। এ বছর তা প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৪ টাকা। আর এ বাড়তি সেচ ব্যয় গুণতে হচ্ছে সাধারণ বোরো চাষীকে। আগে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি স্থানীয়ভাবে সভা করে এই মূল্য নির্ধারণ করতো।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ প্রত্যাহার করে আগের মূল্য বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে দিনাজপুর গভীর নলকূপ কৃষক কল্যাণ সমিতি।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারদের দরপত্রের আলোকে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সকল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আওতাধীন বৈদ্যুতিক ট্রান্স-ফরমার ওঠানো-নামানোর ব্যয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত ১৩ মে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক বেলায়েত হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই আদেশ দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২কে জানানো হয়।
সমিতির অধীন ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় বিদ্যুত্চালিত মোট পাঁঁচহাজার ১৯৩টি সেচ পাম্প রয়েছে। এরমধ্যে গভীর নলকূপ এক হাজার ৬৭৩টি এবং অগভীর নলকূপ আছে তিন হাজার ৫২০টি। গভীর নলকূপ রয়েছে ফুলবাড়ীতে ২৩৪টি, পার্বতীপুরে ২৭৭টি, নবাবগঞ্জে ৩৪০টি, বিরামপুরে ৩৩৪টি, হাকিমপুরে ২৪৮টি ও ঘোড়াঘাটে ২৪০টি।
জানা গেছে, চুরি ঠেকাতে গভীর নলকূপের মালিকেরা সেচ মৌসুম শেষে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে নিজ বাড়িতে রেখে দেন এবং আবার বোরো মৌসুম শুরু হলে বাড়ি থেকে এনে বিতরণ লাইনে সংযোগ নেন। ওই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিতরণ লাইনে সংযোগ প্রদান ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য এবং ওঠানো-নামানোর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়।
গভীর নলকূপের মালিকরা বলছেন, বিতরণ লাইনে ট্রান্সফরমার তুলতে ৫০০ টাকাও খরচ হয় না। গত বছর এক হাজার ২০০ টাকা নেয়া হলেও এ বছর হঠাত্ করে তা বাড়িয়ে ৫হাজার ৩৬৪ টাকা করা হয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ওই টাকা জমা দিয়েই সংযোগ নিচ্ছেন। এতে করে সাধারণ কৃষকের সেচ খরচ বেড়ে যাবে।
দিনাজপুর গভীর নলকূপ কৃষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি শাহ মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ট্রান্সফরমার ওঠানো-নামানোর দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনিতেই কৃষক উত্পাদিত ফসলের দাম পান না। নতুন করে আরো বাড়বে উত্পাদন খরচ।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ট্রান্সফরমার ওঠানো-নামানোর দর নির্ধারণ করেছে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়। এখানে তাদের করার কিছুই নেই। তবে আগে স্থানীয়ভাবে সমিতি বোর্ড সভা করে এ মূল্য নির্ধারণ করে দিত।