ফের ১/১১ এর আশংকা :আমীর খসরু এই আশংকা ভিত্তিহীন :ড. মসিউর
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতার নিরসন না হলে আরো একটি ওয়ান ইলেভেন হতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, এ কল্পনার কোন ভিত্তি নেই। সংবিধান নস্যাত্ করে কেউ ক্ষমতা নিলে সেটি রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে পরিগণিত হবে, এমনটি সংবিধানে সংযোজন করা হয়েছে। গত শনিবার ঢাকায় বিবিসির ‘বাংলাদেশ সংলাপে’ তারা এই মন্তব্য করেন। গতকাল রবিবার বিবিসি বাংলা এটি প্রচার করে।
সংলাপে এবার আলোচকদের মধ্যে আরো ছিলেন উন্নয়ন সংস্থা একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা আবার একটি ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করতে পারে কিনা জানতে চাইলে ড. মসিউর রহমান বলেন, দেশ শাসনের পদ্ধতিগত পথ হল নির্বাচন। সংবিধান সংশোধন করে সেটি স্থাপন করা হয়েছে এবং সংবিধান নস্যাত্ করে যদি কেউ ক্ষমতা গ্রহণ করে সেটা হবে রাষ্ট্রদ্রোহ। যদি একটি প্রধান দল সংবিধানকে মানতে না চায়, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে অস্বীকার করে, সংসদে গিয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাহলে তার উপর কি করে আস্থা রাখবো?
বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার নিজেই এ সংকটের সৃষ্টি করেছে। তাদেরই সমাধান করতে হবে। সরকার হয়তো চায় ওয়ান ইলেভেন হোক, আর্মির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলাম। এটা অনেকেই বিশ্বাস করেন এখন।
ফারাহ কবীর বলেন, দলগুলো যদি নির্বাচন না করে বা নির্বাচনের জন্য যা দরকার সেটা না হলে যে কোনো কিছু হতে পারে। তবে আমরা গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি চাই না।
আলী রেজা ইফতেখার বলেন, সংঘাত এড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে কী হয় তা পুরোপুরি অনিশ্চিত। দুই রাজনৈতিক দলকে এক প্লাটফরমে আনতে না পারলে যে কোন কিছুই হওয়া সম্ভব। এক প্রশ্নের উত্তরে আমীর খসরু বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের ব্যর্থতা। কোন ক্ষেত্রেই সফলতা নেই। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল আইনের শাসন নেই।
ফারাহ কবীর বলেন, সরকারের শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্জনগুলো সফলতা। আইন-শৃঙ্খলায় ব্যর্থতা রয়েছে।
আমীর খসরু দাবি করেন, তারা দায়িত্ববান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছেন। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু সংসদে গিয়ে সমাধান হবে না।
আলী রেজা ইফতেখার বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের সংলাপ হলে ব্যর্থতা কম হতো। শেয়ার বাজার বড় ধাক্কা খেয়েছে। অর্থনৈতিক খাতে ব্যর্থতা একটু বেশি হয়েছে।
গত চার বছরে সবারই কিছু না কিছু উন্নতি হয়েছে এবং উল্লেখ করার মতো কোন ব্যর্থতা নেই বলে দাবি করেন ড. মসিউর রহমান।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. মসিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করেছে। মামলা হয়েছে। যে ডায়রির পাতার কথা বলা হয় সেটা কেউ কখনো দেখেনি। একটা ভুয়া জিনিসের উপর আমরা কথা বলছি। বিশ্বব্যাংক ও কানাডা সরকার এখনো কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। তাই আমি মনে করি, প্রমাণযোগ্য কিছু এখানে পাওয়া যায়নি।
আমীর খসরু বলেন, জিএসপি বাতিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুনানিতে সরকারের কোন প্রতিনিধি যায়নি। এটা সরকারের অব্যবস্থাপনার প্রমাণ। তবে মসিউর রহমান বলেন, জিএসপি ইস্যুতে তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকার নেবে।