শেয়ারবাজারে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

গতকাল সোমবার শেয়ারবাজারে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১৯ কোটি টাকা। এনিয়ে টানা ১০ দিন ডিএসইতে দুই শত কোটি টাকার নিচে লেনদেন হলো। এর আগে গত বছর ৮ জুলাই ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১১৫ কোটি টাকা। অর্থাত্ ৬ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে গতকাল বাজারে লেনদেন ছিল সর্বনিম্ন। এদিকে বাজারে অব্যাহতভাবে লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজার সংশ্লিষ্টরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ডিএসইও নেমেছে লেনদেন খরার কারণ অনুসন্ধানে। এজন্য গতকাল মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এক বৈঠক করেছে ডিএসই। এর আগে গত রবিবার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করে। জানা গেছে, লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছ ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গে মার্জিন ঋণ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার লেনদেন করা যাচ্ছে না, এসব হিসাবে থাকা শেয়ার কিভাবে লেনদেনে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিএসই’র তথ্যে দেখা গেছে, শেয়ারবাজারে লেনদেন কমার সাথে সাথে সূচকও কমছে। গতকাল ডিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ১১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৫ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৬৫টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৫৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের। এদিন ডিএসই’র ২৬৫টি কোমপানির ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৫ হাজার ২৩৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাত বদল হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ৪৬ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৫৮০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই-৩০ মূল্য সূচক ৩৮ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৮৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ৮ হাজার ২৪৯ টাকা লেনদেন হয়েছে। লেনদেনকৃত ১৬৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ১০৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির দাম।