মু খো মু খি
অনেক ভালো গান ভিডিওর অভাবে মরে যায়
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০২
সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী তানভীর শাহিন। গেল বছর লেজার ভিশন থেকে রিলিজকৃত তার ‘মন বন্দরে’ অ্যালবামটিতে ‘সখীরে’ গানটির মাধ্যমে সারাদেশের শ্রোতাদের দৃষ্টি কাড়েন। গত বছরের হিসেব অনুযায়ী সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম ছিল এটি। আমেরিকা প্রবাসী এই শিল্পী সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন নতুন কিছু গান রেকর্ডিং ও মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের কাজে। কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অপলা প্রিয়দর্শিনী।
প্রথম অ্যালবামের সাফল্যে কেমন লাগছে?
অবশ্যই ভালো। তবে সবাই আমার এই অ্যালবামটি প্রথম জানলেও আসলে এটি আমার দ্বিতীয় অ্যালবাম। কারণ, প্রথম অ্যালবামটি আমার প্রকাশ পেয়েছিল সঙ্গীতার ব্যানারে। কিন্তু অ্যালবামটির প্রচার ও ভালো ডিস্ট্রিবিউশনের অভাবে সেভাবে বাজার পায়নি। তবে এই অ্যালবামটি নিয়ে আগে থেকেই আমার আশাবাদ ছিল। শ্রোতাদের ভালোবাসায় আমার গানগুলো একটা জায়গা পেয়েছে।
‘মন বন্দর’ অ্যালবামটির বিশেষত্ব কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?
এটার বিশেষত্ব ছিল সারল্য। আর কম্পোজিশনে গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছু কাজ করেছি। বিশেষ করে এই অ্যালবামে আমার গুরু আলাউদ্দিন আলী স্যারের গান করেছি। যাকে আমি ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করি। গানগুলো সত্যিকার অর্থেই মানসম্পন্ন হয়েছে। আর ভালো কাজের মূল্যায়ন শ্রোতারা করবেই।
কিন্তু গান হিট হওয়া এখন নাকি নির্ভর করে মিউজিক ভিডিওর ওপরে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
এটা যুগের চাহিদা। আসলে গানটা এখন দেখার অন্যতম উপদান হয়ে গেছে। অনেক ভালো গান ভিডিওর অভাবে মরে যায়। সবাই একটা গান শুনে, একটা দৃশ্যকল্প মনে কল্পনা করে। সেই কল্পনা অনুযায়ী সবকিছু মিললে তবেই সে গানটি শ্রোতাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
কিন্তু প্রবাসী শিল্পীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ঠকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কোম্পানিগুলোও যেহেতু আর লগ্নি করতে চান না। সেখানে প্রবাসী শিল্পীদের কাছ থেকে তো আরও বেশি অর্থ হাকানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। আপনার বেলায় ঘটনাটি কেমন ছিল?
আমার বেলায় পুরোপুরি বলব না। কিছুটা ব্যতিক্রম। আসলে আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে প্রডিউসারের বড় অভাব। একটি অ্যালবামের প্রোডাক্ট, প্রমোশন, ভিডিও সবকিছুই শিল্পীর নিজের করতে হচ্ছে। এটা শেয়ার করা উচিত। আমি এটুকু লাকি যে, আমার গানের রিংটোন ও অ্যালবাম রয়্যালিটি বাবদ কোম্পানি আমাকে টাকা দিয়েছে।
কিন্তু এভাবে বিদেশ বিঁভুইয়ে থেকে কি ক্যারিয়ার দাঁড় করানো সম্ভব—যেখানে আমাদের দেশের শিল্পীদের ভেতরেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হচ্ছে?
এটা কঠিন। কিন্তু এখন তো গ্লোবালাইজেশনের যুগ। তাই এটা কোনো ম্যাটার করে না যে আমি কোত্থেকে অ্যালবামটা প্রডিউস করছি। নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে দেশের সবার সাথে। আর আমি যেহেতু আমেরিকায় শো অ্যারেঞ্জ করি, তাই শিল্পীদের সাথে সব সময়ের একটা যোগাযোগ রেখেই চলতে হয়।
আপনার এই আয়োজক পরিচয় সম্পর্কে বলুন। দেশের বাইরে স্টেজ শো নিয়েও অনেক কথা শোনা যায়। কনসার্টে নাকি অনেক অব্যবস্থাপনা হয়?
এটা সবার ক্ষেত্রে না। যেমন আমি সর্বশেষ মাইলসের শো করলাম। এটা না দেখলে কেউ বুঝবে না। আমেরিকান যে কোনো পপ ব্যান্ডের কনসার্ট যে আয়োজন যে সম্মানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও তেমনই। এখানে একটা ধারণা ছিল যে বাঙালিরা একসাথে অনেক শিল্পীর কনসার্ট দেখে অভ্যস্ত। অন্যথায় নাকি কনসার্ট জমে না। কিন্তু আমি বারবার এটা ভুল প্রমাণ করেছি। আমি একাধিকবার শাহনাজ রহমতউল্লার একক কনসার্ট করেছি। প্রবাসী বাঙালি অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আর এবারের মাইলসের শোটি ছিল একটা রেকর্ড। আসলে পুরো বিষয়টি কনসেপ্টের ওপরে নির্ভর করে।
কত দিন দেশে আছেন, কী কী কাজ করলেন এবারে?
বেশ কিছু কাজ করলাম। শিমুল হাওলাদারের পরিচালনায় দুটি গানের ভিডিও তৈরি করলাম। যার একটি আমার সলো অ্যালবামে বের হবে। অন্যটি ভ্যালেন্টাইনের একটি মিক্স অ্যালবামে রিলিজ হবে। এ ছাড়া বেশ ক’টি টিভিতে ইন্টারভিউ দিলাম। এ ছাড়া কয়েকটি স্টেজ শোতেও অংশ নিলাম। সবমিলিয়ে একটা সফল সফর। আর অ্যালবামটি হিট হওয়ার কারণে এবারে আমার বাংলাদেশ সফরটাও অন্যরকম।