পাথরখেকোরা বেপরোয়া

সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং-এ পাথরখেকোরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাহাড়, নদীর তলদেশ, বাড়ি-ঘরের নিচ থেকে উঠানো হচ্ছে রাশি রাশি পাথর। তাদের কবলে পড়ে দেশের অন্যতম এই পর্যটন এলাকার পিয়াইন নদী, পাহাড়-ঝরনা ও গহীন বন বিনষ্ট হচ্ছে। সম্প্র্রতি তাদের নজর পড়ে স্থানীয় সংগ্রাম বস্তি এলাকার একমাত্র শ্মশান ঘাটের দিকে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার রাতে তারা দলবদ্ধ হয়ে ওই শ্মশান ঘাটের মাটি খনন কাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করতে চাইলে এলাকাবাসীকে নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র শ্মশান ঘাটের নিচের পাথর উত্তোলনের জন্য জোর তত্পরতা চালিয়ে আসছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়; কিন্তু নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই গভীর রাতে পাথরখেকোরা সমাধিস্থল খুঁড়ে লাশের মাথার খুলি, হাড়-গোড় বের করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখে। শ্মশান ঘাটটি ঘুরে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানান, এরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছে না। কারণ তাদের রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশও নীরব বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় আদিবাসী বিমল বাবু। এলাকাবাসী তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সমাধিস্থল রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন। বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ফোনে ওসিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কাউকেই বে-আইনি কাজ করতে দেয়া হবে না বলে তিনি জানান ।