রাজউক চেয়ারম্যান মন্ত্রীর অনুরোধে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করলেন
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৮
পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে তা আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা। তিনি বলছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগেই অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে মার্চ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে রাজি হয়েছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানও বলেছেন, নূরুল হুদা মেয়াদের পুরো সময় দায়িত্ব পালন করবেন বলেই তারা আশা করছেন।
গত রবিবার রাত থেকেই নূরুল হুদার পদত্যাগের গুঞ্জন শুরুর পর গতকাল সোমবার সকালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান। কিন্তু গতকাল সকালে সচিব খোন্দকার শওকত হোসেন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ পদত্যাগের খবর নিছকই গুজব। এটা সম্পূর্ণ দূরভিসন্ধিমূলক একটা প্রচারণা। এর কোনো সত্যতা নেই। তিনি পদত্যাগ করেননি। আমরাও কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি গোষ্ঠী এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। একটা কারণ হতে পারে, রাজউক অনেক বড় বড় কাজ করছে।
এদিকে গতকাল সকালে রাজউক চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বলা হয়, নূরুল হুদা বাসা থেকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে গেছেন, অফিসে আসেননি। সচিব যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান তখন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের কক্ষেই ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তারা দু’জনেই ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকরা পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্নান খান বলেন, আমরা এ রকম কিছু পাইনি।
সাংবাদিকরা এ সময় সরাসরি নূরুল হুদাকেই এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তার আমাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী মার্চ মাসে আমার মেয়াদ শেষ হবে। আমি এক মাসের মধ্যেই অব্যাহতি চেয়েছি। তার পাশে দাঁড়ানো মান্নান খান এ সময় বলেন, অনেক বড় বড় কাজ চলছে। আমরা একসঙ্গে সেগুলো সম্পন্ন করতে চাই। আশা করছি উনি মেয়াদের শেষ পর্যন্ত থাকবেন।
২০০৯ সালের ৩০ মার্চ অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর দুই দফায় এক বছর করে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি এক বছরের জন্য তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।