৩০ শিক্ষক নিয়ে চলছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

গত শনিবার আন্দোলনরত (ক্লাস-পরীক্ষার দাবিতে) ছাত্র-শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলার পর ৩০ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫৪ জন শিক্ষকের মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পদচ্যুত সাবেক ভিসি-প্রোভিসিপন্থি মাত্র ৩০ জন শিক্ষক কয়েকটি বিভাগে কিছু ক্লাস নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে এবং প্রক্টর ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. টিএম লোকমান হাকিমের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জিয়া পরিষদ ও গ্রীন ফোরামের ৩ শতাধিক শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসছেন না। সংগঠন তিনটি গতকাল পৃথক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর গত ১৯ নভেম্বর ও ১২ জানুয়ারি নৃশংসভাবে হামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোন বিচার না হওয়ায় শিক্ষকরা আর ক্যাম্পাসে নিরাপদ নন। আমরা মনে করি এই প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টার নেতৃত্বেই বিগত দুই দুইবার শিক্ষকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের উপর বিগত হামলার বিচার এবং বর্তমান প্রক্টর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. লোকমান হাকিমের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্যাম্পাসে যাব না।’ বিগত ৬ মাস যাবত্ অব্যাহত এই অচলাবস্থায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী গতকালও ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে গেছে। ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. লোকমান হাকিম বলেছেন, ‘প্রক্টর ও আমি নিজে যথেষ্ট সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। তাই আমাদের পদত্যাগ দাবি অযৌক্তিক’। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলন করে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, আমরা নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছি এবং করব। যারা এখনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন না, শিগগিরই ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।