চট্টগ্রাম ইউরিয়ার
উত্পাদন বন্ধ
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত সরকারি ইউরিয়া সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) গ্যাসের অভাবে সার উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতে কারখানাতে চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ কমদ; তার উপর গত রবিবার গ্যাসের চাপ স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় কারখানার সার উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
এ কারখানাটিতে গ্যাস সংকট গত বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করার কারণে দফায় দফায় কারখানাটি বন্ধ রাখতে হয়। এতে গত বছর সার উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সিইউএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে জানান, কারখানার অবস্থা আবারো খুব খারাপ পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমনিতে কারখানাটিতে চাহিদা অনুসারে গ্যাস সরবরাহ আসে না, তার উপর রবিবার বিকাল তিনটায় গ্যাসের চাপ স্মরণকালের নিম্নতম পর্যায়ে নেমে আসে। ফলে ইউরিয়া সার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। এমোনিয়া শাখার দুটি প্ল্যান্ট আপাতত চালু থাকলেও তাতে এমোনিয়া উত্পাদন হচ্ছে না। পাইপলাইনে স্বল্প পরিমাণে গ্যাস আসলেও গ্যাসের চাপ না থাকায় তা উত্পাদন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে সিইউএফএল কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছর ডিসেম্বরে গ্যাস সংকটের কারণে উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কারখানাটি ২৫ দিনে মাত্র ৯০০ টন সার উত্পাদন করে।
এ কারখানাতে প্রতিদিন ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস স্ট্যান্ডার্ড চাপ সহযোগে সরবরাহ করা হলে কারখানাটি উত্পাদন ক্ষমতার ৯০ শতাংশ ইউরিয়া সার প্রতিদিন উত্পাদন করতে সক্ষম। দৈনিক উত্পাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫শ’ টন। দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ১৭শ’ টন। গত বছর কারখানার ইউরিয়া সার উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলো দেড় লাখ টন, গ্যাস সংকটসহ নানা অচলাবস্থার কারণে উত্পাদন করেছে মাত্র ১ লাখ ১১ হাজার টন। কর্ণফুলী গ্যাস সিস্টেমস এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে লাইনে গ্যাসের চাপ অনেক কমে গেছে। শীতে গ্যাসের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং গ্রিড লাইনসহ সংযোগ লাইনের ভেতর কনডেনেসট জমে যাওয়ায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রামে বর্তমানে দৈনিক ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এটাও গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়।