বরিশালে বেপরোয়া
মাদক চক্র
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
বরিশালে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা, ফেন্সিডিল থেকে শুরু করে গাঁজা-হেরোইন পর্যন্ত। হাত বাড়ালেই এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকরা। এমনকি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও জড়িয়ে পড়ছে নেশায়।
গত ১৫ দিনে র্যাব কয়েক হাজার বোতল ফেন্সিডিলসহ ৫ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে হাজার হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় নগরীতে ভ্রাম্যমাণ কয়েক মাদক বিক্রেতাকে। র্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা আসার পরে ফেন্সিডিলের কদর কমে যায় মাদকসেবীদের কাছে। এখন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নগরীতে বিক্রি হলেও তা ধরা মুশকিল হয়ে পড়ে। বিগত দিনে যারা ফেন্সিডিল বিক্রি করতো সেইসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ও তাদের দেয়া তথ্যমতে খুচরা ইয়াবা বিক্রেতাদের মাঝে-মধ্যে গ্রেফতার করা হলেও নতুন করে ইয়াবা ব্যবসার সাথে যারা জড়িয়ে পড়ছে তারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ফেন্সিডিলের চেয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করা সহজ।
গত শনিবার রাতে নগরীর আমতলার মোড় এলাকা থেকে র্যাব-৮ এর সদস্যরা একটি ট্রাক থেকে ১ হাজার ৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে আটক করে। গ্রেফতার করা হয় ট্রাক চালক মুকুল হোসেনকে (২২)। উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিল নগরীর কাউনিয়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কাছে যাচ্ছিল বলে র্যাব জানিয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর র্যাব নগরীর বিমানবন্দর ইছাকাঠি এলাকা থেকে ১ হাজার ১৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ ইছাকাঠী এলাকার মাদক সম্রাট সিরাজুল ইসলাম ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে। গত ১১ জানুয়ারি গৌরনদী থানা পুলিশ খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইল্লা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিলসহ ঐ গ্রামের মোসলেম সরদারের পুত্র রাসেল সরদার ওরফে স্বাধীনকে গ্রেফতার করে। গত ৮ জানুয়ারি গৌরনদী থানার ওসি আবুল কালাম ধানডোবা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৩৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ইউপি সদস্য নান্নু মৃধা ও তার সহযোগী আনোয়ার কবিরাজকে গ্রেফতার করে। একই সময় ডিবি পুলিশ নগরীর টিএন্ডটি কলোনীর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এক দম্পতিকে ৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে সামপ্রতিককালে ভাটিখানা এলাকা থেকে মাদক সম্রাট পীযূষও দেবা সহোদরের বাসার মাটির নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই রায়পাশা - কড়াপুর এলাকা থেকে র্যাব একই ভাবে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার ৬শ’ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। প্রতিদিনই র্যাবের অভিযানে ৩/৪শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে।
যারা মাদকদ্রব্যসহ র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছে তারা কিছুদিনের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুরনো পেশায় যুক্ত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, নগরীর প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নানান পরিবহনে আসে মাদক দ্রব্য। নিরাপদ স্থানে তা নামিয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ‘আলফা-মাহেন্দ ’ যোগে খুব সহজেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে মজুদ করা হয়। বিভিন্ন মাদকদ্রব্য খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে মোটর সাইকেল যোগে পৌঁছে দেয়া হয় সেবনকারীদের কাছে। স্বল্প পুঁজিতে বিশাল লাভ মাদক ব্যবসায়। মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে যে সিন্ডিকেট রয়েছে তারা সময় বুঝে এর মূল্য বাড়িয়ে দেন। ইংরেজি নববর্ষ ও বনভোজনসহ নানা অনুষ্ঠান ও পর্ব উপলক্ষে ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য মাদকের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। খুচরা বিক্রেতাদের টপকে যেসব সেবনকারী মাদক আস্তানায় ছোটেন তাদের দেখা মিলে পশ্চিম কাউনিয়া সাধুর বটতলা, কাউনিয়া বিসিক শিল্প এলাকা, ব্রাঞ্চরোড, শ্মশান ঘাট, মড়কখোলার পোল, নতুনবাজার, ভাটিখানা, ফকিরবাড়ি, কালিবাড়ি, রাখালবাবুর পুকুরের পাড়, বালুরবস্তি, থানা কাউন্সিল, রূপাতলী বাস টার্মিনাল, নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, সিএন্ডবি সড়ক, কাশীপুর চৌমাথা, গড়িয়ার পাড়, কাশীপুর রেন্ট্রিতলা, বেলতলা খেয়াঘাট, চরকাউয়া ফেরিঘাট এলাকায়।