সীমান্তে হত্যা কোনভাবে
গ্রহণযোগ্য নয়
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
সীমান্তে হত্যা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় প্রতিবারই প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে গতকাল সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এ কথা বলেন। গত ৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভা।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধে উভয় দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা আইন মেনে চলা উচিত। রাজশাহী সীমান্তে গত ২ জানুয়ারি দুই বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা বারবার এ হত্যা বন্ধের জন্য প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সীমান্তে হত্যার ঘটনা বন্ধ করতে তিনি সীমান্ত অধিবাসীদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।
বিডিআর বিদ্রোহের বিচার সম্পর্কে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিদ্রোহের বিচার শেষ হওয়ার পর বিজিবিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল—পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিডিআর বিদ্রোহের বিচারে খালাসপ্রাপ্তরাও বিজিবিতে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি মহাপরিচালক আরো বলেন, বিজিবিকে শক্তিশালী করতে এর গোয়েন্দা ইউনিটকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এখন থেকে গোয়েন্দা ইউনিটের নাম হবে বর্ডার সিকিউরিটি ব্যুরো (বিএসবি)। ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তকে ৪ টি আঞ্চলিক সদর দপ্তরে ভাগ করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি রংপুর, যশোর, সরাইল (ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া) ও চট্টগ্রামে এই ৪টি আঞ্চলিক সদর দপ্তর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সায়ীদ খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিত্সা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিক হালদার, উপ-মহাপরিচালক (যোগাযোগ) কর্ণেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান, উপ-মহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল রুস্তম আলী ও উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল ইকবাল আখতার মিয়া।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০১২ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে ৪৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম দুই দিনে ঠাকুরগাঁও ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নিহত হয়েছেন চারজন। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর বিএসএফের এই নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।