সাতকন্যা বোনেরা

শুনেছি ওরা নাকি বৃষ্টির সাথে থাকেরে মেঘের দেশে, সাতকন্যা সাত বোন পৃথিবীকে দেখে যায় বৃষ্টিকে নিয়ে এসে। যখন মেঘাকাশে বাজে খুব ঢাক-ঢোল জোরে-সোরে ওরা সাত বোন তখন মেঘের ভেলাতে চড়ে নদীর উপরে ঘোরে। একথাটি কেন বললাম এর একটি শক্ত প্রমাণ আছে, এক রাতে সাত কন্যা বোন নেমে এসেছিল আমার কাছে। তখন বালক বয়সী আমি শ্রাবণের এক বর্ষণমুখর রাতে মামার সঙ্গে ঘুমিয়েছিলাম গাঙে; ছইঅলা নৌকাতে। বৃষ্টি আর মেঘের ঘনঘটার ওপারে চাঁদ পড়েছিল ঢাকা, বিদ্যুত্ খেলছিল মাথার উপরে হয়ে আঁকা-বাঁকা। মাছ ধরতে গিয়েছিলাম জাল পেতে মাছও পেয়েছিলাম প্রচুর, নৌকার তলায় রাখা সেই মাছের গন্ধ করছিল ভুর ভুর। বৃষ্টির শব্দকে মাঝে মাঝে ঢেকে দিয়ে মেঘ করছিল ডাকাডাকি, সে ডাক শুনে আমার মন উতলা হলো কি করে ঘুমিয়ে থাকি। ঘুম থেকে জেগে উঠে বসে প্রাণ ভরে দেখি ও শুনি বৃষ্টি নেচে বাজিয়ে চলেছে সমানে পানির উপরে শব্দের ঝুনঝুনি। এইকালে দেখলাম কারা যেন উড়ে এসে বসলো নায়ের গলুইয়ে, একটু এগিয়ে এসে তারা দেখলো আমাকে ছইয়ের ভেতরে নুইয়ে। ওরা সবাই ছিল সমবয়সী চির বালিকা সুন্দরী— দাঁড়িয়েছিল আমার সম্মুখে একে অপরের হাত করে ধরাধরি। আমি ভয় মেশানো আনন্দে ওদেরকে দেখছিলাম হয়ে গুটিসুটি, ওদের কেউ কেউ আমার দিকে চেয়ে হাসছিল কুটিকুটি। এক মেয়ে আমার কাছে এগিয়ে এসে বললো- এই খোকা শোন আমরা থাকি মেঘ মুলুকে আমরা হলাম সাত কন্যা বোন। আমরা তোকে এখন নিয়ে যাবো রে বৃষ্টির ভেতর দিয়ে— আমাদের সাথে উড়িয়ে তোকে আমাদের বন্ধু বানিয়ে। আমি ভয় পেয়ে মামাকে জড়িয়ে ধরি এই দেখো মামা কারা; আমাকে মেঘলোকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা। আর তক্ষুণি দেখলাম সাতকন্যা বোনেরা ডানা খুলে উড়ে গেল বৃষ্টির ভেতর দিয়ে বাতাসে ফড়ফড় শব্দ তুলে। মামা ও আমি ভয়ে ভয়ে পাটাতনের নিচে রাখা গাছগুলোকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম সেই শেষ রাতের বৃষ্টির ভেতর দিয়ে। জানি, আমার বাল্য বয়সে দেখা নেই সাত কন্যা বোনেরা এখনো বৃষ্টির সাথে পৃথিবীতে আসা-যাওয়া করে ঘনঘন। ওরা ওদের সেই বালিকা বয়সেই এখনো আছে স্থির কেননা ওরা তো থাকে চির আনন্দভরা দেশে বৃষ্টি ও মেঘমেঘালির।